গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে রিশাতলা, ঢাকা‑খুলনা মহাসড়কে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একটি ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুতগতিতে চলমান একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকায় যাওয়া ট্রাকের নিচে গিয়ে ধসে পড়ে, ফলে দুইজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়।
মৃতদেহের পরিচয় হয় মুকসুদপুর পৌরসভার দক্ষিণ চন্ডিবরদী এলাকার জাহিদ মিয়ার ছেলে রাফছান রাফি এবং শিমুলশুর গ্রাম শিশির কর্মকারের ছেলে অনুজ। উভয়ই মুকসুদপুর এসজে উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ছিলেন এবং তাদের পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সময়, রিশাতলা এলাকায় ট্রাফিকের চাপ বাড়ে। একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল চালক হঠাৎ গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকের নিচে গিয়ে ধসে পড়ে। ট্রাকটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে, আর মোটরসাইকেলটি দুমড়ে‑মুচড়ে ভেঙে যায়। একই মুহূর্তে, ট্রাকের পেছনে চলমান একটি ই-সাইকেল (ইজিবাইক) ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রাকটি রাস্তার পাশে থেমে যায়। আহত কোনো ব্যক্তি না থাকলেও, দুইজন তরুণ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে, জড়িত যানবাহনগুলো জব্দ করে। থানা ওসির (অফিসার ইন চার্জ) নামাবলি অনুযায়ী, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং ইজিবাইক সবই নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি রেকর্ডিং সংগ্রহ করে, যা ঘটনার সঠিক ক্রম নির্ধারণে সহায়তা করবে।
অধিক তদন্তের জন্য, থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ী চালকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, অযথা গতি বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রিকর্ডেড অপরাধের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হবে।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুকসুদপুর এসজে উচ্চ বিদ্যালয়, ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকমণ্ডলী শোকস্মরণী আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যাতে সহপাঠীরা তাদের প্রিয় বন্ধুর স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারে।
মুকসুদপুরের বাসিন্দারা দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে রাস্তায় গতি সীমা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। স্থানীয় সরকারও এই ঘটনার পর্যালোচনা করে, রিশাতলা সেকশনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
আইনি দিক থেকে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল এবং অপরাধমূলক দায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্ত শেষ হয়ে সিসিটিভি প্রমাণ নিশ্চিত হলে, থানা পুলিশ মামলাটি জেলা আদালতে দাখিল করবে, যেখানে বিচারক যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করবেন।
এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সমাজে নিরাপদ ট্রাফিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে গতি সীমা মেনে চলা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান করা হচ্ছে।



