23.2 C
Dhaka
Wednesday, February 25, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনলিলি কলিন্স অড্রি হেপবার্নের ভূমিকায় 'ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানি' নির্মাণের নতুন চলচ্চিত্র

লিলি কলিন্স অড্রি হেপবার্নের ভূমিকায় ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানি’ নির্মাণের নতুন চলচ্চিত্র

লিলি কলিন্স, যিনি ‘এমিলি ইন প্যারিস’ সিরিজে জনপ্রিয়, অড্রি হেপবার্নের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন এমন একটি চলচ্চিত্রের ঘোষণা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকল্পটি ১৯৬১ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানি’ তৈরির পেছনের গল্পকে পুনরায় তুলে ধরবে। চলচ্চিত্রটি মূলত সাম ওয়াসনের বিশদ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা চলচ্চিত্রের উৎপত্তি ও প্রভাবকে বিশ্লেষণ করে।

‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানি’ মূলত ট্রুম্যান ক্যাপোটের ১৯৫৮ সালের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং আধুনিক নারীর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। লিলি কলিন্সের কাস্টিং ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্লাসিকের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব পুনরায় আলোচনার সূচনা হয়েছে।

সাম ওয়াসনের বইটি চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া, স্ক্রিপ্টের পরিবর্তন এবং হেপবার্নের অভিনয় শৈলীর বিশদ বিবরণ দেয়। নতুন চলচ্চিত্রটি এই গবেষণার ভিত্তিতে হেপবার্নের পারফরম্যান্সের পেছনের সূক্ষ্ম মানসিক ও সামাজিক দিকগুলোকে উন্মোচন করতে চায়। এতে হেপবার্নের চরিত্রের গঠন, সেটের নকশা এবং প্রযোজকের সিদ্ধান্তগুলোকে বিশ্লেষণ করা হবে।

চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলি গোলাইটেলি শুধুমাত্র একটি স্ক্রিনের চরিত্র নয়, বরং একটি নতুন আবেগগত শব্দভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত। হেপবার্ন যখন ফিফথ এভিনিউতে কালো সিল্কের পোশাক পরিধান করে শহরের রোদের নিচে হাঁটতেন, তখন তিনি এমন এক নারীকে উপস্থাপন করছিলেন, যিনি না শিকারী, না নায়িকা, বরং নিজের মিথ তৈরি করে চলেছিলেন।

হেপবার্নের এই অভিনয় শৈলী তখনকার সামাজিক কাঠামোর জন্য অপ্রচলিত ছিল। তিনি আর্থিকভাবে অনিশ্চিত, আবেগগতভাবে রক্ষিত, তবু আত্মনির্ভরশীল এবং নিজের পরিচয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করছিলেন। এই দ্বৈততা এবং আত্মনির্মাণের চিত্রটি আধুনিক নগর জীবনের এক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

সাম ওয়াসনের গবেষণা অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি যৌনতা, স্বাধীনতা এবং পরিচয়ের ধারণাকে পুনর্গঠন করেছে। হেপবার্নের হলি গোলাইটেলি চরিত্রটি আমেরিকাকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রান্তে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে পুরুষ-নারীর ভূমিকা ও ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন তীব্রভাবে উঠে এসেছে।

১৯৬০-এর দশকের আমেরিকান সমাজে এই চলচ্চিত্রের প্রভাব গভীর ছিল। এটি নারীর স্বতন্ত্রতা ও আত্মবিশ্বাসের নতুন মডেল উপস্থাপন করে, যা পরবর্তী দশকের ফ্যাশন, সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। হেপবার্নের চরিত্রটি তখনকার তরুণীদের জন্য আত্মপ্রকাশের একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছিল।

টিফানি’স গহনার দোকানকে শারীরিক স্থান থেকে মানসিক আশ্রয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে। হলি গোলাইটেলি তার একাকিত্বকে শহরের ব্যস্ততা মধ্যে গোপন করে, যা আজকের ‘পাবলিক স্পেসে একা থাকা’ ধারণার পূর্বসূরী হিসেবে বিবেচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক নগর সংস্কৃতির একটি মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলচ্চিত্রের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হল হেপবার্নের কালো গিভেঞ্চি গাউন, যা হিউবার্ট দে গিভেঞ্চি ডিজাইন করেছেন। এই পোশাকটি ফ্যাশন ইতিহাসে সর্বাধিক স্বীকৃত আইটেমগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত, এবং হেপবার্নের চরিত্রের স্বাতন্ত্র্যকে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করে।

নতুন চলচ্চিত্রটি হেপবার্নের এই ঐতিহাসিক গাউনকে পুনরায় তুলে ধরবে, পাশাপাশি চরিত্রের মানসিক জটিলতা ও সামাজিক প্রভাবকে বিশ্লেষণ করবে। নির্মাতারা হেপবার্নের অভিনয়কে শুধুমাত্র শৈল্পিক নয়, বরং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরায় মূল্যায়ন করতে চান।

প্রকল্পের প্রস্তুতি বর্তমানে চলছে, এবং লিলি কলিন্সের কাস্টিং ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। চলচ্চিত্রটি হেপবার্নের জীবনের শেষের দিকে তার ক্যারিয়ারকে কীভাবে পুনর্গঠন করেছে, তা তুলে ধরবে। এই পুনর্গঠনটি আধুনিক দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।

সামগ্রিকভাবে, ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানি’ নির্মাণের নতুন চলচ্চিত্রটি ক্লাসিকের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে, তার সাংস্কৃতিক প্রভাবকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্য রাখে। হেপবার্নের চরিত্রের বহুমাত্রিকতা, টিফানি’সের মানসিক প্রতীকত্ব এবং গিভেঞ্চি গাউনের আইকনিকতা একত্রে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments