আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে জানালেন, তিনি বর্তমানে চলমান ও পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া সব মামলার বিষয়বস্তু গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করা।
মো. আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার তদারকি। তার প্রথম প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ২৪টি ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি মামলার বিচার দুইটি ট্রাইব্যুনালে চলমান। যদিও তিনি এখনো এসব মামলার বিশদ বিষয়বস্তু দেখেননি, তবে তিনি সব ফাইলের ওপর নিজের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলবেন।
প্রসিকিউটর জানান, তিনি ফরমাল চার্জের যথার্থতা, তদন্তের সম্পূর্ণতা এবং প্রমাণের যথাযথতা যাচাই করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো মামলায় যদি আইনগত ত্রুটি দেখা দেয় বা অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তবে তা সঠিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, রায় ঘোষিত মামলাগুলোর ফাইলও তিনি পর্যালোচনা করবেন, যদিও এখনো সেসব রায়ের বিষয়বস্তুতে তিনি মন্তব্য করতে পারেন না।
মো. আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও কার্যকরী বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি সকল মামলার ফাইল, তদন্ত রিপোর্ট এবং বিচারিক নথি পুনরায় বিশ্লেষণ করবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, নতুন চিফ প্রসিকিউটরের এই উদ্যোগ দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনমতের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পূর্বে রায়প্রাপ্ত মামলাগুলোর পুনঃপর্যালোচনা করা হলে, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মো. আমিনুল ইসলামের এই ঘোষণার পর, ট্রাইব্যুনালের কর্মীদেরও দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সব মামলার ফাইলের ওপর সম্যক দৃষ্টিপাতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে, দেশের শিকারের অধিকার রক্ষায় ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এই পুনঃপর্যালোচনা প্রক্রিয়া কীভাবে ফলাফল দেবে, তা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।



