ঢাকা শহরে ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আফফান সাইদকে অপহরণ করার দুই ঘণ্টা পরই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সফলভাবে উদ্ধার করেছে। ঘটনা ঘটেছে চামেলীবাগের ১৬ নম্বর ভবনে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন এবং সাততলা উচ্চতার। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং দ্রুত তদারকি মিলিয়ে এই অভিযানটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা তুলে ধরেছে।
বিকাল প্রায় তিনটায় আফফান সাইদ সাইকেল চালিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মোবাইল থেকে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। রিকোয়েস্টটি শামীম আহমেদ, যিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের কর্মচারী, তার কাছে পৌঁছায়। রাশিফল জানার পরেই তিনি উদ্বেগে ফোনের সুরে মুছে ফেলেন এবং তৎক্ষণাৎ সহায়তা খোঁজার জন্য পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
শামীম আহমেদ ফোনে জানেন যে অপহরণকারীরা দ্রুতই ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত চায় এবং যদি টাকা না দেয়া হয় তবে শিশুকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এই হুমকি শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে দেন। একই সময়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অফিসে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা সত্ত্বেও শামীমের কাছে এগিয়ে যান। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন, তবে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ইচ্ছা স্পষ্ট হয়।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের খবর শোনা মাত্রই, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ তত্ত্বাবধানে একটি টিম গঠন করা হয়, যার মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষিত অপারেশন ইউনিটের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। টিমটি চামেলীবাগের নির্মাণাধীন ভবনের সাততলা অংশে প্রবেশ করে এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত ছাত্রকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ দলটি সতর্কতার সঙ্গে ভবনের কাঠামো পরীক্ষা করে, কোনো ফাঁদ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে দ্রুত অগ্রসর হয়। শেষ পর্যন্ত আফফানকে একটি বন্ধ ঘরে পাওয়া যায়, যেখানে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত ছিলেন এবং কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। উদ্ধারকৃত শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে শামীম আহমেদ প্রকাশ করেন, “প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না।” তিনি কৃতজ্ঞতার প্রকাশে বলেন, “এত দ্রুত এবং নিরাপদে ফিরে পেয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।” তার কণ্ঠে উদ্বেগের পরিবর্তে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ জানান, “জননিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তদারকি করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় ছাত্রকে উদ্ধার করতে পেরে আমরা গর্বিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “অভিযানটি পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত কোনো ধাপই বাদ দেয়া হয়নি, ফলে সফলতা অর্জিত হয়েছে।”
অপহরণকারীদের সম্পর্কে জানা যায়, তারা ওই এলাকার স্থানীয় চোর এবং মাদকাসক্তদের সমন্বয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠী। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, তারা পূর্বে একই এলাকায় ছোটখাটো চুরি ও চাঁদাবাজি কার্যক্রমে লিপ্ত ছিল। বর্তমানে তাদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উল্লেখ করেছে, অপহরণ ঘটার পরপরই তথ্য সংগ্রহ, রিকোয়েস্টের বিশ্লেষণ এবং তৎক্ষণাৎ রেসকিউ টিম গঠন করা হয়। টিমের সদস্যরা দ্রুত 현장 পৌঁছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে অপারেশন চালায়। এই দ্রুত পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত সফলতার মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযানের পরপরই, সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে তথ্য শেয়ারিং এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
শামীম আহমেদের পরিবার এখন নিরাপদে আছে এবং শিশুর স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল। পরিবারে ফিরে আসা স্বস্তি এবং কৃতজ্ঞতা স্পষ্ট, তবে একই সঙ্গে তারা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত কাজের ফলে এই অপহরণ ঘটনা দ্রুত সমাধান হয়েছে। ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে।
অভিযানটি শেষ হওয়ার পর, রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য শেয়ারিং এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।



