২৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তার পদত্যাগের পর প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে ফেসবাইলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক নেটওয়ার্কে তার বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া তথ্যগুলো কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নয় এবং তা তার স্বচ্ছ কাজের বিরোধী উদ্দেশ্য বহন করে।
বিবৃতিতে তাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল ও আজ তার নামের ওপর ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্যগুলোকে তিনি ঘৃণ্য মিথ্যাচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তাজুল ইসলাম তার পোস্টে স্পষ্টভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগের পক্ষে একটিও প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার এবং প্রসিকিউশন টিমের সব পদক্ষেপ আইনগতভাবে সঠিক এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অধিকন্তু, তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি সংগঠিত অপপ্রচার চালু রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রচারণা যেন বিচার প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয় এবং দায়িত্বশীলদের উপর অনধিকৃত চাপ সৃষ্টি করে।
তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চিফ প্রসিকিউটর পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পদ থেকে সরিয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাজুলের বিদায়ের পরই নতুন অফিসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিদায়ের পর ট্রাইব্যুনালের বর্তমান প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, তাজুলের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রুয়ান্ডা গণহত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাজুলের পদত্যাগ ও তার পরবর্তী অভিযোগগুলো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উভয়ই তাজুলের বিবৃতি ও নতুন প্রসিকিউটরের পদক্ষেপকে পর্যবেক্ষণ করছে। তাজুলের চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় আদালত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করলে তার দাবিগুলো আইনগতভাবে শক্তিশালী হতে পারে। অন্যদিকে, নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ইতিমধ্যে মামলাগুলোতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তাজুলের অভিযোগ ও নতুন প্রসিকিউটরের পদক্ষেপ দুটোই রুয়ান্ডা গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আদালত যদি তাজুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করে, তবে ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।



