কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা থেকে বিএনপি জেলা সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর গাড়ির চলাচল সহজ করতে গাছ কেটে ফেলেছেন, যা আজকের দিনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পদত্যাগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গাছ কাটা ঘটেছে মঙ্গলবার, কামালপুর এলাকায়, যেখানে নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে প্রায় বিশটি মেহগনি গাছ রোপণ করা হয়েছিল।
বৈজ্ঞানিকভাবে নদীর তীরের গাছগুলোকে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে পানির প্রবাহের গতি কমে এবং তীরে ক্ষয় রোধ হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংস্থা এই গাছগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে জাহাঙ্গীর গাড়ির গন্তব্যে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করার ফলে তিনি গাছগুলো কেটে নিজের গাড়ির পথ পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।
গাছ কাটা কাজটি ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে নিজের বাড়ি যাওয়ার পথে দ্রুতগতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে জানা যায়। গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছিল গাছের মূল অংশ ও শিকড়সহ, ফলে পরিবেশগত ক্ষতি এবং নদীর তীরের স্থিতিশীলতা হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বিএনপি জেলা পর্যায়ের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গৃহীত এক বিজ্ঞপ্তিতে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গাছ কাটা কাজটি দলের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ এবং তা অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব স্তরের পদস্থগিত করা হয়েছে। এই পদস্থগিতের মধ্যে জেলা সভাপতি, উপজেলা সভাপতি এবং অন্যান্য পার্টি পদ অন্তর্ভুক্ত, যা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাত্ক্ষণিক বাধা সৃষ্টি করবে।
দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গাছ কাটা কাজটি ব্যক্তিগত স্বার্থে করা হয়েছে এবং তা পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটা কাজটি দলের শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ডের সরাসরি লঙ্ঘন এবং তাই তা অবিলম্বে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় স্তরে কিছু পার্টি সদস্য গাছ কাটা কাজের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে, যদিও কিছু সমর্থক জাহাঙ্গীরের গাড়ির চলাচল সহজ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উচ্চতর পর্যায়ের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা হয়েছে এবং গাছ পুনরায় রোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে মিঠামইন উপজেলার রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের পদস্থগিতের ফলে স্থানীয় স্তরে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে গাছ রোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, এই ঘটনা দলের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে অন্যান্য স্তরে সতর্কতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিএনপি উচ্চতর পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তকে দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অটল থাকার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং গাছ কাটা কাজের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গাছ পুনরায় রোপণ ও নদীভাঙন রোধের জন্য নতুন পরিকল্পনা গৃহীত হবে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার সমর্থন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিএনপি জেলা সভাপতি গাছ কাটা কাজের জন্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পদস্থগিত হয়েছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে।



