ঢাকার বাংলা একাডেমী ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দুই স্থানে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। মেলায় মোট ১০১৮টি স্টল ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
বহুমাত্রিক বাংলাদেশ থিমের অধীনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রায় ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে, যা তরুণ লেখক ও স্বতন্ত্র প্রকাশনার জন্য বিশেষ স্থান তৈরি করবে।
শিশু চত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৭টি ইউনিট প্রদান করা হয়েছে। এই অংশে শিশু-কেন্দ্রিক বই, শিক্ষামূলক সামগ্রী এবং বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলা একাডেমী ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমীর নিজস্ব বই ও পত্রিকাগুলি দু’টি অংশেই বিক্রয়ের জন্য উপলব্ধ থাকবে, যা পাঠকদের জন্য বিস্তৃত পছন্দের সুযোগ দেবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে নতুন প্রকাশনা মোড়কের উন্মোচন অনুষ্ঠানও নির্ধারিত হয়েছে, যা প্রকাশকদের নতুন শিরোনামকে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এই অনুষ্ঠানে মেলার মূল লক্ষ্য, থিম ও পরিবেশগত দিকগুলো তুলে ধরা হবে।
মেলা ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন বিকাল ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিনে মেলার সময় সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে বেশি সংখ্যক দর্শক অংশ নিতে পারে।
প্রতিদিন বিকেল ৩টায় বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার ও শনিবার ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর চালু থাকবে, যেখানে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
পবিত্র রমজান মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে সুরা তারাবি নামাজের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে মেলায় আসা মুসল্লারা সুবিধা পায়।
মেলাটি শূন্য বর্জ্য লক্ষ্যে পরিচালিত হবে; পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদি পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হবে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, ফাস্ট ফুড ও কফি শপে এই নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব বর্তমান বাংলা লিমিটেডের হাতে। পাঠকরা যদি মেলায় যান, তবে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহার করা স্টলগুলোতে প্রশ্ন করে সচেতনতা বাড়াতে পারেন।



