২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল ৫:০৬ টায় জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখের মন্তব্য নিয়ে কঠোর সমালোচনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি সাম্প্রতিক একটি জাতীয় দৈনিকের সাক্ষাৎকারে বহু বিষয় চেপে গেছেন এবং সেই দিন তিনি যা বলেছিলেন তা এখনো স্বীকার করেননি।
রহমানের পোস্টে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পলাতক বলে দাবি করা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ সংক্রান্ত পূর্বের বক্তব্যকে এখনো স্বীকার করছেন না, যদিও সেই সময় উপস্থিত নেতাদের এবং জাতিকে তিনি আলাদা আলাদা বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, “৫ই আগস্ট ২০২৪ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গিয়েছেন। কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতাদের যা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন তার বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন সেদিন তার কিছুই তিনি বলেননি।”
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, কোটি কোটি মানুষ যা শুনেছে এবং সেদিন রাষ্ট্রপতি যা বলেছিলেন, তার সাথে বর্তমান বক্তব্যের পার্থক্য গণনা করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোটি-কোটি মানুষ যা শুনল এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন তার হিসাব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি? জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।” এই মন্তব্যে তিনি রাষ্ট্রপতির উচ্চপদস্থ অবস্থান থেকে এমন আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত করেছেন।
পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুতই অনলাইন আলোচনায় রূপ নেয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই পাওয়া যায়। তবে, প্রকাশের মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির অফিস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সরাসরি সামাজিক মিডিয়া মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতার সমালোচনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে। রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে জনমত গঠন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির সত্যতা এখনও স্পষ্ট হয়নি, এবং উভয় পক্ষই এই বিষয়টি নিয়ে আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্য এই বিতর্ককে নতুন দিক দিয়ে আলোচনায় নিয়ে এসেছে, যেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির পূর্বের এবং বর্তমান বক্তব্যের অসামঞ্জস্যকে মূল সমস্যারূপে তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, জামায়াত-এ-ইসলামির এই প্রকাশ্য বিরোধিতা সরকারকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকে এমন মন্তব্য করেন যা বিরোধী দল দাবি করে যে তা জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিরোধের ধারাবাহিকতা কি রাজনৈতিক সমঝোতা বা আরও তীব্র সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
সারসংক্ষেপে, ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ৫ আগস্টের মন্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি তুলে ধরে, এবং তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত করেছেন। এই প্রকাশ্য সমালোচনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।



