২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যাতে সরকারকে শাহজালাল (রাঃ) র দারগা শারিফে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সামগ্রী সঠিকভাবে রক্ষা ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পিটিশনের মূল লক্ষ্য হল ঐ সামগ্রীগুলোকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং সেখানে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা।
পিটিশনটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) হিসেবে দাখিল করা হয়েছে, যা সমাজের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই মামলায় সরকারী দায়িত্বের যথাযথ পালন না করা হলে তা অবৈধ ঘোষণার দাবি করা হয়েছে।
দায়ের পক্ষ থেকে সিলেটের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী মুসতাক আহমেদ চৌধুরী এই পিটিশনটি উপস্থাপন করেছেন। তিনি সিলেটের স্থানীয় নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
পিটিশনে উচ্চ আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা কেন শাহজালালের দারগা শারিফে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করার জন্য একটি নীতি জারি করা হোক। এই ব্যাখ্যা না দিলে তাদের কাজ অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
শাহজালাল (রাঃ) উত্তর-পূর্ব ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম ধর্মের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একজন সুফি সাধু হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বর্তমান সিলেট অঞ্চলে তার ধর্মীয় ও সামাজিক প্রভাব গভীরভাবে অনুভূত হয়। তিনি শান্তি, মানবতা ও ধর্মীয় সংস্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যাপকভাবে সম্মানিত।
দারগা শারিফে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক সামগ্রীগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধুর তলোয়ার, পোশাক এবং প্রার্থনার চাদর। এসব বস্তু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অমূল্য, তবে বর্তমানে এগুলো ফার্নিচারের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য অপ্রাপ্য।
বর্তমানে এই পবিত্র সামগ্রীগুলোকে ব্যক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণকারী গোষ্ঠী অনুপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করছে। যথাযথ সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সামগ্রীর অবনতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
১৯৬৮ সালের প্রাচীন সামগ্রী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারকে ঐতিহ্যবাহী সম্পদ রক্ষার আইনি দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই আইনের আওতায় শাহজালালের পবিত্র সামগ্রীগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
আইনের ভিত্তিতে সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামগ্রীর সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্য উপভোগ করতে পারে। সরকারী সংস্থাগুলোর ত্বরিত পদক্ষেপের অভাবকে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
পিটিশনের আরেকটি মূল দাবি হল দারগা শারিফের প্রাঙ্গণে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে এই ধরনের ঐতিহাসিক বস্তুগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রদর্শন করা যাবে। জাদুঘরটি শিক্ষামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সরবরাহে।
মুসতাক আহমেদ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চ আদালত আগামীকাল পিটিশনের শুনানি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। শুনানির মাধ্যমে মামলার মূল বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে এবং সরকারকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তা নির্ধারিত হবে।
শিক্ষা বিভাগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শাহজালালের ঐতিহাসিক সামগ্রী সংরক্ষণ ও প্রদর্শন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে সহায়ক হবে। স্থানীয় স্কুল ও কলেজগুলো এই জাদুঘরকে শিক্ষামূলক সফরের গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
পাঠকগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, ঐতিহ্যবাহী সম্পদের সংরক্ষণে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুন। আপনার মতামত বা প্রস্তাবনা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এই পিটিশন এবং সম্ভাব্য শুনানির ফলাফল সিলেটের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, তাই সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে বলা হচ্ছে।



