২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকালে নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লায় দুই শিশুরা নদীর তীরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের বক্সে নজর দেয়। বক্সটি প্রথমে খেলনা বলে ভেবে তারা বাড়িতে নিয়ে আসে। দুই দিন পর, বক্সটি খুলে দেখা যায় তাতে পিস্তলের পঞ্চাশটি গুলি লুকিয়ে আছে।
বক্সটি বাড়িতে নিয়ে আসার পর শিশুর মা মরিয়ম বেগম বক্সের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তিনি বক্সের ঢাকনা খুলে গুলি দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় রিপোর্ট করেন। তার জানান, নদীর পানির স্তর হ্রাসের ফলে তার দুই ছেলে মাছ ধরতে গিয়েছিল এবং বক্সটি হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল।
মরিয়ম বেগমের জানামতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বক্সের পাশাপাশি গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের কিছু সরঞ্জাম তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রী পরে সিংড়া থানার ওসি আ.ব.ম আব্দুল নূরকে হস্তান্তর করা হয়।
অধিকারের অধীনে ওসি আব্দুল নূর জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিস্তলের গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এসব কোথা থেকে এসেছে এবং কারা রেখে গেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, বক্সের উৎস ও গুলির মালিকানা নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
থানার তদন্ত দল বক্সের উৎপত্তি অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা ও মাছ ধরা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বক্সটি নদীর তীরে ধরা পড়ে এবং সম্ভবত কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রমের অংশ হতে পারে। গুলির ধরণ ও ক্যালিবার বিশ্লেষণ করে গুলি কোন ধরনের অস্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নির্ধারণ করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অবৈধ অস্ত্রের গুলি পাওয়া একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, গুলি ও অস্ত্রের মালিকানা, সংরক্ষণ, এবং অবৈধভাবে স্থানান্তর করা হলে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হয়। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গুলি সরবরাহের দায়ী পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্কতা জোরদার করেছে। নদীর তীরে অব্যবহৃত বস্তু বা অজানা প্যাকেজে হাত না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে শিশুরা যদি এমন কিছু পায় তবে তা সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জানাতে হবে।
অবশেষে, ঘটনাস্থল থেকে গুলি ও সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ার পর, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যথাযথ তদন্ত চালিয়ে যাবে। এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সম্প্রদায়ের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।



