হলিউডের আমেরিকান লেজিয়ন পোস্ট ৪৩-এ ২৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া No‑AI Credo 23 চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান বক্তা হিসেবে শোন বেকারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের আয়োজক জাস্টিন ব্যাটম্যান, যিনি এআই‑বিহীন চলচ্চিত্র নির্মাণের পক্ষে দৃঢ়সঙ্কল্প, বেকারকে তার ২০১২ সালের আন্তঃপ্রজন্মিক বন্ধুত্বের নাটক ‘স্টারলেট’ প্রদর্শনের সুযোগ দেবেন এবং চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্ম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করবেন।
উৎসবে গাস ভ্যান সাঁট এবং মেথিউ ওয়েইনারও অংশ নেবেন, যারা তাদের পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ বিনোদন শিল্পের দিকনির্দেশনা নিয়ে মতবিনিময় করবেন। এভাবে একাধিক স্বনামধন্য নির্মাতা একত্রে এআই‑সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
শোন বেকার ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অস্কার অনুষ্ঠানে বিশাল সাফল্য অর্জন করে চলচ্চিত্র জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার এই সাফল্যকে ভিত্তি করে তিনি মানবিক স্পর্শযুক্ত চলচ্চিত্র তৈরির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এআই‑নির্ভর প্রক্রিয়ার বিপরীতে হাতে তৈরি শিল্পকর্মকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
No‑AI Credo 23 উৎসবের দ্বিতীয় সংস্করণ হিসেবে এই বছরও বহু স্পনসর সমর্থন করছেন। কডাক, লাইভ‑ইভেন্ট থিয়েটার বিতরণকারী ফ্যাথম, ট্যাবলেট ম্যাগাজিন, টিমস্টারস এবং কাস্টম সিঙ্ক স্লেটসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মানবিক কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। বিশেষ করে কাস্টম সিঙ্ক স্লেটস শারীরিক প্রোডাকশন বজায় রাখতে আগ্রহী, যা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি।
উৎসবে প্রদর্শিত সব চলচ্চিত্রই ব্যাটম্যানের মতে হাতে তৈরি কারুকার্যের নিদর্শন হবে। প্রতিটি কাজের পেছনে শিল্পীর সৃজনশীলতা ও শ্রমের স্পষ্ট চিহ্ন থাকবে, যা এআই‑সৃষ্ট কন্টেন্টের তুলনায় ভিন্ন স্বাদ প্রদান করবে। এছাড়া, উৎসবের সব আয় ব্যাটম্যানের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে, যাতে নতুন সৃষ্টিকর্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়।
ব্যাটম্যানের এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা হল শিল্পে নতুন ধারার সৃষ্টিকর্তা ও তাজা ধারণার অভাবের উদ্বেগ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে অনেক ফেস্টিভ্যাল এআই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে, যার ফলে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতারা স্বতন্ত্র সৃজনশীলতা প্রকাশে বাধা পাচ্ছেন। গুগলসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি সংস্থা এআই‑ভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে, যা শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্যাটম্যানের লক্ষ্য হল একটি ভিত্তিমূলক আন্দোলন গড়ে তোলা, যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতারা এআই‑নির্ভরতা ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারেন। তিনি বলেন, “যারা বিষয়টি গভীরভাবে বোঝেন, তারা এআই ব্যবহার না করার কারণগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং অন্যদেরও তা শেখাতে পারেন।” এই দৃষ্টিভঙ্গি উৎসবের সেশনগুলোকে শিক্ষামূলক ও প্রেরণাদায়ক করে তুলবে।
উৎসবের সময়সূচি অনুযায়ী শোন বেকার ‘স্টারলেট’ চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিংয়ের পর একটি প্রশ্নোত্তর সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দর্শকরা সরাসরি নির্মাতা থেকে চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া ও মানবিক উপাদান সম্পর্কে জানতে পারবেন। গাস ভ্যান সাঁট ও মেথিউ ওয়েইনারের সেশনগুলোও একইভাবে তাদের কাজের পেছনের দৃষ্টিভঙ্গি ও এআই‑বিরোধী নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করবে।
No‑AI Credo 23 উৎসবের মাধ্যমে ব্যাটম্যান এবং তার সহ-অংশীদাররা এআই‑প্রযুক্তি দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় একটি সমন্বিত, মানবকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এই উদ্যোগটি শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে এবং স্বতন্ত্র সৃষ্টিকর্তাদের জন্য একটি নিরাপদ মঞ্চ সরবরাহ করবে।
উৎসবের সমাপ্তি পর্যন্ত সব প্রোগ্রাম সম্পন্ন হলে, সংগৃহীত তহবিল নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা হবে, যাতে তারা আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। এভাবে No‑AI Credo 23 কেবল একটি চলচ্চিত্র উৎসব নয়, বরং মানবিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য একটি টেকসই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।



