ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য প্রতিনিধিরা গার্মেন্ট শিল্পের কর্মীদের বেতন ও ঈদ‑উল‑ফিতরের বোনাস সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করতে নগদ প্রণোদনা তহবিলের দ্রুত মুক্তি দাবি করেন। এ জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ ম্যানসুরের সরাসরি সাক্ষাৎ চেয়েছেন। তহবিলের অমিলের ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং শ্রমিকদের আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয় যে, লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতা কারণে বহু গার্মেন্ট কোম্পানির নগদ প্রণোদনা আবেদন এখনো মুলতুবি রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ধীরগতি শিল্পের তরলতা সংকটে আরও চাপ সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য অর্থপ্রাপ্তির অপেক্ষা করছে, যা উৎপাদন পরিকল্পনা ও কর্মী মজুরিতে প্রভাব ফেলছে।
২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের হিসাব অনুযায়ী, টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাতের জন্য প্রায় টাকার ৫,৭০০ কোটি প্রণোদনা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই বড় পরিমাণের তহবিল দ্রুত বিতরণ হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের নগদ প্রবাহে স্বস্তি আসবে বলে সংস্থা উল্লেখ করেছে। তদুপরি, অবিলম্বে তহবিল মুক্তি শিল্পের ঋণ চাহিদা কমিয়ে আর্থিক বাজারের অতিরিক্ত চাপ হ্রাস করবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য বিশেষভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SMEs) জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক তহবিল মুক্তি দাবি করে। তারা পূর্বে জমা দেওয়া তালিকায় উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে সমর্থন করার প্রস্তাব দেয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উৎপাদন শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত রোধ এবং কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
ঈদ‑উল‑ফিতরের পূর্বে বেতন ও বোনাস পরিশোধে সহায়তা করার জন্য, সংস্থা দুই মাসের বেতনের সমমানের ঋণ সুবিধা চেয়েছে। এই ঋণ ১২ মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে, যার প্রথম তিন মাসে কোনো সুদ বা কিস্তি না দিয়ে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। এ ধরনের স্বল্পমেয়াদী আর্থিক সহায়তা শিল্পের নগদ প্রবাহে ত্বরান্বিত উন্নতি আনতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য প্যাকিং ক্রেডিট (PC) পুনরায় চালু করার এবং সুদের হার ৭ শতাংশে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রি‑শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল টাকার ৫,০০০ কোটি থেকে দ্বিগুণ করে টাকার ১০,০০০ কোটি বাড়ানোর দাবি করা হয়। এই স্কিমের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা সমর্থন করা হবে।
প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কর্মীদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ শিল্পের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। বেতন বকেয়া থাকলে শ্রমিকদের মধ্যে অশান্তি ও উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই, তহবিলের দ্রুত মুক্তি এবং ঋণ সুবিধা শিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্থা আরও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী নীতি পদক্ষেপ গার্মেন্ট শিল্পকে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থেকে রক্ষা করবে। নীতিগত দিক থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ শিল্পের ঋণ ব্যয় কমিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে। এ ধরনের সমর্থন দেশের রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যের দাবি অনুযায়ী, নগদ প্রণোদনা তহবিলের অমিলের সমাধান ছাড়া শিল্পের তরলতা সংকট অব্যাহত থাকবে। তহবিলের অমিলের ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা বিলম্বিত হতে পারে এবং রপ্তানি আদেশে দেরি হতে পারে। তাই, তহবিলের দ্রুত নিষ্পত্তি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, ঋণ সুবিধা এবং প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার হ্রাসের মাধ্যমে গার্মেন্ট শিল্পের আর্থিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এই ধরনের আর্থিক রিলিফ উৎপাদন খরচ হ্রাস করে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়াবে। ফলে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় উন্নত হবে।
প্রস্তাবিত প্রি‑শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল দ্বিগুণ করার মাধ্যমে, শিল্পের বড় অর্ডার গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদী স্কিমের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করবে। এই নীতি গার্মেন্ট শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যের এই চাহিদা গার্মেন্ট শিল্পের আর্থিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার এবং কর্মী কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত। তহবিলের দ্রুত মুক্তি, ঋণ সুবিধা এবং ক্রেডিট স্কিমের সম্প্রসারণ শিল্পের তরলতা সংকট সমাধানে মূল চাবিকাঠি হবে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে, দেশের রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত।



