মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাপিটল ভবনে রাষ্ট্র‑অবস্থা বক্তৃতা দিতে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনের হাউস চেম্বারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইনপ্রণেতা, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক এবং সামরিক নেতারা একত্রিত হবে। বক্তৃতা ২১:০০ ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইমে (গ্রীনউইচ মিডিয়ান টাইমে ০২:০০) শুরু হবে এবং সরাসরি টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হবে।
বক্তৃতার মূল উদ্দেশ্য হল প্রেসিডেন্টের প্রথম বছরকালের অর্জনগুলো উপস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ নীতি পরিকল্পনা ঘোষণা করা। তিনি কী কী সাফল্য অর্জন করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে কোন দিকগুলোতে কাজ চালিয়ে যাবেন, তা এই সেশনে তুলে ধরবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের নাগরিক ও আইনসভাকে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে চান।
বক্তৃতা নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এই বক্তৃতা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল এই সুযোগকে ভোটারদের কাছে তাদের কর্মসূচি পুনরায় উপস্থাপনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করবে।
সেনেট ও হাউসের সদস্যদের অধিকাংশই উপস্থিত থাকবে, তবে কিছু ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা এই সেশনে অংশ না নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কিছু সদস্যের অনুপস্থিতি বক্তৃতার বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি কমিয়ে দিতে পারে, তবে বিরোধী পার্টির প্রতিনিধিরা এখনও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
মার্কিন সংবিধানের ধারা অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে সময়ে সময়ে কংগ্রেসকে রাষ্ট্র‑অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের সুপারিশ করতে হয়। এই ধারাটি ১৭৯০ সালে জর্জ ওয়াশিংটন প্রথমবার উপস্থাপন করার পর থেকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে, রাষ্ট্র‑অবস্থা বক্তৃতা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম প্রধান মিডিয়া ইভেন্টে রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক সময়ে এটি শুধু প্রেসিডেন্টের বার্তা নয়, বরং বিরোধী দলের তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া এবং মিডিয়ার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে।
বক্তৃতার সময় বিরোধী পার্টি সাধারণত একটি রিবাটাল প্রদান করে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই রিবাটালগুলো টেলিভিশন ও অনলাইন স্ট্রিমে ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হয়।
২০২০ সালে হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতা অর্ধেক কেটে ফেলার ঘটনা স্মরণীয়। পেলোসি সেই সময়ে বক্তৃতাটিকে “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ম্যানিফেস্টো” বলে সমালোচনা করেন। ঐ ঘটনা থেকে রাষ্ট্র‑অবস্থা সেশনের রাজনৈতিক তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে।
বক্তৃতা ২১:০০ ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইমে (গ্রীনউইচ মিডিয়ান টাইমে ০২:০০) শুরু হবে এবং প্রায় এক ঘণ্টা চলার কথা। এই সময়সূচি কংগ্রেসের যৌথ সেশনের জন্য নির্ধারিত নিয়মিত সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাধারণত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের চেম্বারে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রেসিডেন্টের সামনে কংগ্রেসের সদস্যরা বসে থাকেন। এই চেম্বারটি ক্যাপিটল ভবনের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত এবং ঐতিহাসিকভাবে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তৃতার মঞ্চ হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতার সময় তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বসবেন, যিনি সেনেটের প্রধান হিসেবে পরিচিত। হাউসের স্পিকার মাইক জনসন, রিপাবলিকান পার্টির নেতা, প্রেসিডেন্টের ডান পাশে বসবেন। উভয়ই বক্তৃতার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
বক্তৃতা লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি মিডিয়া চ্যানেলগুলো একই সাথে সরাসরি সম্প্রচার করবে, যাতে নাগরিকরা রিয়েল‑টাইমে প্রেসিডেন্টের বার্তা শোনার সুযোগ পায়।



