মধ্যপ্রদেশের জাবলপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস (JMFC) আদালত নীরজ প্যান্ডে এবং নেটফ্লিক্সের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গোষ্কর পণ্ডিত শিরোনাম সংক্রান্ত বিতর্কে আইনি নোটিশ জারি করেছে। মামলাটি একটি অপরাধমূলক মানহানির অভিযোগের ভিত্তিতে উত্থাপিত, যেখানে শিরোনামটি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননাকর বলে দাবি করা হয়েছে। আদালত পঙ্কজ স্বাতী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং অভিযোগকারী পি.টি. বৈভব পথকের দাখিলকৃত শপথপত্র ও সমর্থনকারী নথি বিবেচনা করে নোটিশ জারি করা হয়।
অভিযোগকারী পি.টি. বৈভব পথক মধ্যপ্রদেশ প্রগ্রেসিভ ব্রাহ্মণ মহাসভার সক্রিয় সদস্য, যিনি শিরোনামটি ব্রাহ্মণ সমাজের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ‘পণ্ডিত’ শব্দটি ঐতিহ্যগতভাবে জ্ঞান, পাণ্ডিত্য এবং ধর্মীয় পবিত্রতার প্রতীক, আর তা ‘ঘুষি’ অর্থের সঙ্গে যুক্ত করলে সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থান নষ্ট হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি চলচ্চিত্রের শিরোনামকে অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক বলে আদালতে আবেদন করেন।
মামলায় উপস্থিত আইনজীবী আসীম ত্রিভেদি অভিযোগকারী পক্ষের পক্ষে যুক্তি দেন যে, যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শিরোনামটি পরিবর্তন করা হচ্ছে, তবে মূল শিরোনামের ব্যাপক প্রচার ইতিমধ্যে ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, প্রচারাভিযানের ফলে সৃষ্ট খ্যাতি হ্রাসের প্রভাব ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় দায়বদ্ধ করা উচিত। ত্রিভেদি আরও উল্লেখ করেন যে, শিরোনামের পরিবর্তন যদিও ভবিষ্যতে ক্ষতি কমাতে পারে, তবে পূর্বে সৃষ্ট নেতিবাচক ধারণা ইতিমধ্যে সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুসারে গোষ্কর পণ্ডিতের শিরোনামটি সংশোধন করা হচ্ছে, তবে সংশোধনের আগে যে প্রচারমূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে বৃহৎ পরিসরে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই কারণে আদালত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শিরোনামের প্রভাব ও সংশোধনের যথার্থতা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে।
নোটিশে নীরজ প্যান্ডের পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের প্রধান কর্মকর্তারা রিড হাস্টিংস, টেড সারান্ডোস, বেলা বাজারিয়া এবং মোনিকা শেরগিলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা নেটফ্লিক্সের কন্টেন্ট নীতি ও প্রকাশনা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে আছেন, তাই শিরোনাম পরিবর্তন ও প্রচার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে আদালত বিবেচনা করেছে।
নোটিশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে আদালত শীঘ্রই তা জানাবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে উভয় পক্ষের আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হবে এবং শিরোনাম সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গোষ্কর পণ্ডিতের বিতর্ক পূর্বে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় ছিল, যেখানে চলচ্চিত্রের মূল শিরোনাম ও তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। এই মামলাটি চলচ্চিত্র শিল্পে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা কীভাবে পরিচালনা করা উচিত, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
বিনোদন ও লাইফস্টাইল অনুষদের পাঠকদের জন্য উল্লেখযোগ্য যে, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ চলচ্চিত্রের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সম্প্রদায়ের গৌরব রক্ষার মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিরোনাম নির্বাচন ও প্রচার কৌশল গড়ে তোলার সময় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করতে হবে।
এই মামলার অগ্রগতি ও চূড়ান্ত রায় সম্পর্কে আপডেট পেতে পাঠকরা আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদন অনুসরণ করতে পারেন।



