সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম আজ দেশের সব বিমানবন্দরে মশা নিয়ন্ত্রণের তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানোন্নয়নের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) পর্যালোচনা সভার সময় মন্ত্রিপরিষদ কনফারেন্স রুমে প্রকাশিত একটি প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে।
সভায় মন্ত্রী বিমান যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মশা প্রতিরোধী স্প্রে করার জরুরি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মশা সংক্রমণ রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যাত্রীদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে মন্ত্রী সকল টার্মিনাল, লাউঞ্জ এবং সেবা এলাকা জুড়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রেগুলার ক্লিনিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টয়লেট রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সিভিল এভিয়েশন রাজ্য মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ট্রলি ঘাটতির বিষয় তুলে ধরে, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ট্রলি সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় এবং যাত্রীদের সেবা মানের ওপর প্রভাব ফেলছে।
মিল্লাতের অনুরোধে ১,০০০ নতুন লাগেজ ট্রলি ক্রয় করার পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন ট্রলি সরবরাহের মাধ্যমে ট্রলি ঘাটতি দূর করে, যাত্রীদের লাগেজ পরিচালনা সহজতর করা হবে।
মন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্য মন্ত্রীও সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা না হলে উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে।
বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সীমা মেনে চলা এবং নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। এই নির্দেশনা সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করতে বলবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি নাসরিন জাহান, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (CAAB) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়।
মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ টিম গঠন, স্প্রে শিডিউল নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত স্প্রে নিশ্চিত করা হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানোন্নয়নের জন্য দৈনিক চেকলিস্ট তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী প্রশিক্ষণ এবং গুণগত মানের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে বলে প্রত্যাশা।
বিমানবন্দর পরিষেবা উন্নয়নের এই উদ্যোগগুলো পর্যটন খাতের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশের কারণে বিদেশি ও দেশীয় পর্যটকদের আগমন বাড়তে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ এই নির্দেশনার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সময়মতো করবে। সকল সংস্থাকে নির্দেশনা মেনে চলা এবং ফলাফল রিপোর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা লক্ষ্য।



