কুষ্টিয়া জেলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল দশটায় জেলা পুলিশের আয়োজনে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে পুলিশ লাইন্সের সম্মেলন কক্ষে কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সকল পুলিশ সদস্যকে নির্দেশমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার) উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও দায়িত্ববোধ জোর দিয়ে বললেন।
পূর্ববর্তী মাসের কল্যাণ সভায় গৃহীত প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি এই সভায় বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি, সম্পন্ন কাজ এবং বাকি কাজের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেইসাথে জেলা পুলিশের সব থানা-ফাঁড়ি ও অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলো, তাদের সমাধান ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সমন্বিত আলোচনা হয়। সমস্যার মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমাধানমূলক পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিনিধিরা মতামত প্রদান করেন।
জানুয়ারি ২০২৬ মাসে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ষোলোজন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারগুলো ছিল শ্রেষ্ঠ এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই/এএসআই, সেরা ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার এবং চৌকস কনস্টেবল।
প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত সদস্যদের নাম ও পদবী উল্লেখ না করলেও, তাদের কাজের গুণগত মান ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণে উপস্থিত সকল সদস্যের মধ্যে গর্বের অনুভূতি দেখা যায়।
সভার শেষ অংশে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সদ্য অবসর গ্রহণকারী চারজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাদের দীর্ঘকালীন সেবা ও ত্যাগকে স্মরণ করে উপস্থিত সকলের কাছ থেকে প্রশংসা ও শুভকামনা গ্রহণ করা হয়।
কল্যাণ সভা সমাপ্তির পর দুপুর বারোটায় একই স্থানে পুলিশ সুপারের অফিসের সম্মেলন কক্ষে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার সঞ্চালনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ করেন এবং সভাপতিত্ব করেন সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) মো. দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণ, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, ডিআইও-১ (ডিএসবি), ওসি (এমটি), পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান), আরআই কুষ্টিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় গত মাসে ঘটিত অপরাধের ধরণ, ঘটনার সংখ্যা, গ্রেফতার ও মামলা দায়েরের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়। প্রতিটি থানা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অপরাধ প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়।
বিশেষত গৃহহিংসা, চুরি, নেটওয়ার্ক অপরাধ এবং মাদক সংক্রান্ত ঘটনার বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সেসব ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়াতে নতুন কৌশল প্রস্তাব করা হয়।
অপরাধের প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা এবং মিডিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য শেয়ারিং ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, সভায় উভয় কল্যাণ ও অপরাধ বিষয়ক বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। সদস্যদের মনোবল বাড়াতে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান, পাশাপাশি অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকরী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়।
সুপ্রতিষ্ঠিত কাঠামো ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সভা সম্পন্ন করে, যা পরবর্তী মাসে কার্যকরীভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



