কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা‑কুমারখালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটায় কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী কাপুড়িয়া হাটে গিয়ে বাজারের বর্তমান অবস্থা ও সমস্যাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে সিন্ডিকেট কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনের প্রথম মুহূর্তেই এমপি হাটের প্রধান গলিগুলোতে ঘুরে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র ধারণ করেন এবং বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি জানেন যে হাটটি ঈদ‑সামনের ব্যস্ততা বৃদ্ধির কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাই দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
বাজারের প্রতিনিধিরা সামগ্রিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাটের অবস্থা, আলো‑বৈদ্যুতিক সরবরাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। তারা উল্লেখ করেন যে বিদ্যমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া, হাটের প্রবেশপথে যানজট ও পার্কিং সমস্যার কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বিশেষ করে বাজারে চলমান অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান যে কিছু মধ্যস্থতাকারী অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ, পণ্যের গুণগত মান হ্রাস এবং বিক্রেতাদের ওপর অনধিকৃত চাপ আরোপ করে বাজারের স্বচ্ছতা নষ্ট করছে। এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের বিশ্বাস হ্রাস পাচ্ছে।
এমপি আফজাল হোসেন এই অভিযোগগুলো মনোযোগ সহকারে শোনার পর তৎক্ষণাৎ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সমস্যার মূল কারণগুলো দূর করা হবে। এছাড়া, তিনি বাজারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেন।
হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনৈতিক প্রভাবের প্রতি শূন্য সহনশীলতা থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং বিক্রেতা‑ক্রেতার স্বার্থ রক্ষার জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটকে ত্বরান্বিত কাজের নির্দেশ দেন।
বাজারের সুশৃঙ্খলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে নতুন বাজার কমিটি গঠন, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং নিয়মিত অডিট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। হোসেন উল্লেখ করেন যে এই পদক্ষেপগুলো বাজারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও স্থায়িত্বের ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি আরও বলেন, বাজারের উন্নয়নে স্থানীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি নির্ধারণ করা হবে।
ঈদ‑সামনের ব্যস্ততা বিবেচনা করে হোসেন ব্যবসায়ীদেরকে আশ্বাস দেন যে বাজারে কোনো বাধা না রেখে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঈদ‑উৎসবের আগে সব অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা অগ্রাধিকার হবে। এভাবে গ্রাহক ও বিক্রেতা উভয়েরই সুবিধা নিশ্চিত হবে।
পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমারখালী পৌরসভা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বাজার কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজারের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হোসেনের ঘোষিত পদক্ষেপের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, বাজারের উন্নয়ন শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, বরং ব্যবস্থাপনা ও নিয়মাবলীর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব। তারা হোসেনের সঙ্গে মিলে বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করার প্রস্তাব দেন।
বাজারের ব্যবসায়ীরা হোসেনের ঘোষিত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তারা আশা করেন যে সিন্ডিকেটের বিরোধী নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ হবে এবং বাজারের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না হবে। এদিকে, তারা হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিদর্শন স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং বাজারের সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা জোরদার করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। আগামী সময়ে হোসেনের উদ্যোগের ফলাফল কুমারখালী বাজারের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



