প্রখ্যাত কবি-গীতিকার জাভেদ আকহর তালেবানের নতুন আইনকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন, যা গৃহহিংসাকে বৈধতা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই বিধান নারীকে শারীরিক ক্ষতি না হলে স্বামীকে মারধর করার অনুমতি দেয়।
তালেবান সম্প্রতি এমন একটি বিধান প্রণয়ন করেছে, যার অধীনে স্ত্রীকে শারীরিক আঘাত না হলে, হাড় ভাঙা না হলে, তা বৈধ বলে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচনা পেয়েছে এবং গৃহহিংসার শিকার নারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
জাভেদ আকহর এই আইনকে “অমানবিক সহিংসতার সমর্থন” বলে বর্ণনা করে তার অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন একটি বিধানকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষয় করে।
তিনি ভারতীয় মুফতি ও মুল্লাদের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে তারা এই বিধানকে নির্দ্বিধায় নিন্দা করেন। জাভেদ আকহর জোর দিয়ে বলেছেন, ধর্মের নামে এমন অনৈতিক কাজকে সমর্থন করা যায় না।
আকহর জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন, মানবিক মূল্যবোধ ও মৌলিক শিষ্টাচার কোনো আলোচনার বিষয় নয়। তিনি বলেন, এটি ধর্মের বিষয় নয়, বরং মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।
যেকোনো রূপে সহিংসতা, সিনেমা সহ, সমাজের নৈতিক কাঠামোকে ক্ষুণ্ন করে, তাই তা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্বে নিন্দা করা উচিত। জাভেদ আকহর এই দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমায় সহিংসতা প্রদর্শনকে কঠোরভাবে বিরোধিতা করেন।
তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের সামাজিক দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করেছেন। আকহর বলেন, সিনেমা সমাজের মানসিকতা গঠনে বড় ভূমিকা রাখে এবং সঠিক মূল্যবোধ প্রচার করা উচিত।
জাভেদ এবং তার সহ-লেখক সালমান খান (সালমান খান) কখনোই কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশেষ করে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, সমর্থন করেননি। তারা তাদের রচনায় নারী চরিত্রকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।
শোলে এবং ইমান ধর্মের মতো চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। শোলে-তে গৃহিণী ও বীরাঙ্গনা চরিত্রগুলোকে সম্মানজনকভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, আর ইমান ধর্মে নারীকে স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের এই দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে সমতা ও সম্মানের পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক। জাভেদ আকহর উল্লেখ করেন, সিনেমা যদি সঠিক মূল্যবোধের প্রতিফলন না হয়, তবে তা সমাজের নৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে।
এই প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারকে রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। তালেবানের এই অনৈতিক বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে সাড়া দিতে হবে।
শেষে, জাভেদ আকহর সকল ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাকে আহ্বান জানান, যেন তারা এই ধরনের অনৈতিক আইনকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন এবং মানবিক মূল্যবোধকে রক্ষার জন্য একসাথে কাজ করেন।



