ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর অফিসে গতকাল নতুনভাবে নিযুক্ত মো. অমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটরদের মধ্যে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রকাশ পেলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে জানান। তিনি প্রেস কনফারেন্সে এই মন্তব্য করেন, যেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তার দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ করেন।
প্রধান প্রসিকিউটর অমিনুলের মতে, তার মেয়াদে যদি কোনো প্রসিকিউটর বা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আইসিটি সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন।
আইসিটি-কে আন্তর্জাতিক মানের অধীনে পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি অমিনুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে কোনো ধরণের দুর্নীতি না থাকলে তা প্রমাণ করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত আলোচনা বা আপত্তি গ্রহণ করা হবে না। এই নীতির মাধ্যমে আইসিটি-কে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে উপস্থাপন করা তার লক্ষ্য।
আইসিটি-কে আইন অনুসারে কঠোরভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি, অমিনুল স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে ইচ্ছুক। তিনি জুলাই বিদ্রোহের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মামলাগুলোকে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন, যা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও অমিনুলের বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি জানান, আইসিটি-তে এখন পর্যন্ত ২৪টি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এবং দুইটি বেঞ্চে মোট ২১টি মামলায় ট্রায়াল চলছে। এই সংখ্যা ট্রাইব্যুনালের কাজের পরিধি ও গতি নির্দেশ করে।
তবে তিনি স্বীকার করেন যে, নিজে এখনও সব মামলার বিশদ পর্যালোচনা করেননি। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট দলকে সব প্রাসঙ্গিক নথি তার কাছে জমা দিতে অনুরোধ করেন, যাতে তিনি যথাযথভাবে মামলাগুলো পরীক্ষা করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, কোনো তদন্তে ত্রুটি বা অনুপযুক্ততা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত হবে।
অমিনুলের মতে, যদি কোনো তদন্ত যথাযথভাবে পরিচালিত না হয় বা কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইসিটি-র স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকল ধাপ আইনগত কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হবে।
মো. অমিনুল ইসলাম গতকালই আইসিটি-র নতুন প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, যা তার পূর্বসূরি তাজুল ইসলামের পদত্যাগের পরের পদক্ষেপ। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কঠোর নীতি প্রয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রেস কনফারেন্সে অমিনুলের মন্তব্যগুলো আইসিটি-র ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আইসিটি-কে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক হবে।



