ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টটেনহ্যাম এই মৌসুমে ১৬তম স্থানে রয়েছে এবং নিচের তিনটি দলে থেকে চার পয়েন্টের পার্থক্য বজায় রেখেছে। ক্লাবের মালিকরা দলকে ডিভিশনে নামতে না দিয়ে বেতন নীতি সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি লিগে টিকে থাকার শর্তে গ্রীষ্মকালে ব্যাপক দল পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
টটেনহ্যামের বেতন ব্যয় প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’ দলের মধ্যে সর্বনিম্ন। সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৩-২৪ আর্থিক প্রতিবেদনে বেতন ব্যয় ২২২ মিলিয়ন পাউন্ড হিসেবে রেকর্ড হয়েছে, যা ম্যানচেস্টার সিটির ৪১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি। যদিও সাম্প্রতিক সাইনিংগুলো বেতন ব্যয় বাড়িয়েছে, তবু টটেনহ্যাম এখনও সবচেয়ে কম বেতন ব্যয়কারী দল হিসেবে রয়ে গেছে।
গত গ্রীষ্মে টটেনহ্যাম কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাইনিং সম্পন্ন করেছে। ডাচ মিডফিল্ডার জাভি সিমন্স, ঘানা জাতীয় মিডফিল্ডার মোহাম্মদ কুদুস এবং ইংলিশ মিডফিল্ডার কনর গ্যালাহারকে দলেই যুক্ত করা হয়েছে। এই খেলোয়াড়দের চুক্তি বেতন ব্যয়কে সামান্য বাড়িয়ে তুলেছে, তবে ক্লাবের সামগ্রিক বেতন কাঠামোতে এখনও বড় পরিবর্তন আনে নি।
কনর গ্যালাহারকে আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আনা হয়েছে এবং তার বেতন প্রায় ২০০,০০০ পাউন্ড প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত। গ্যালাহার বর্তমানে টটেনহ্যামের সর্বোচ্চ বেতনের খেলোয়াড় এবং তার আগমনকে ক্লাবের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মালিকরা গ্যালাহারের চুক্তিকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাইনিংয়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছে।
মালিকদের মতে, টটেনহ্যাম দীর্ঘ সময় ধরে খেলোয়াড়দের বেতনে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেনি, যা বর্তমান আঘাত সংকট এবং লিগে নিম্নস্থানে থাকার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। লুইস ফ্যামিলি ট্রাস্টের মালিকানা অধীনে ক্লাবের বেতন নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল, তবে এখন এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ড্যানিয়েল লেভি, যিনি গত সেপ্টেম্বর লুইস ফ্যামিলি ট্রাস্টের দ্বারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তার শাসনামলে ক্লাব বেতন ও ট্রান্সফার ফি উভয় ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করেছিল। স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধের জন্যও ব্যয় কমাতে হয়েছিল, ফলে বেতন ব্যয় মোট আয়ের মাত্র ৪২% সীমাবদ্ধ ছিল, যা প্রিমিয়ার লিগের গড়ের তুলনায় কম।
একজন সূত্রের মতে, লুইস পরিবার এখন বুঝতে পারছে যে লিগে উচ্চ স্থান অর্জনের জন্য বেতন ব্যয় ট্রান্সফার ব্যয়ের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী। তাই, টটেনহ্যাম যদি ডিভিশনে নামতে না পারে, তবে বেতন কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা হবে এবং গ্রীষ্মে বড় আকারের সাইনিংয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।
ক্লাবের প্রধান নির্বাহী ভিনাই ভেঙ্কটেশামও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে টটেনহ্যাম আর্থিকভাবে আরও নমনীয় হতে প্রস্তুত। এই মন্তব্যটি দলের বর্তমান সংগ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে আঘাতের কারণে মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
ইগর টুডরকে এই মৌসুমের শেষ পর্যন্ত প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। টুডরের দায়িত্ব হল দলকে রিগ্রেশন থেকে রক্ষা করা এবং বেতন নীতি পরিবর্তনের পরের গ্রীষ্মে সম্ভাব্য বড় সাইনিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা। তার অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ক্লাবের পুনর্গঠন পরিকল্পনার মূল অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদি টটেনহ্যাম প্রিমিয়ার লিগে অবশিষ্ট থাকে, তবে মালিকরা বেতন বাড়িয়ে আরও উচ্চমানের খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। এই ক্ষেত্রে, গ্যালাহারের পরবর্তী বড় সাইনিংয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা দলকে লিগের মধ্যম স্তর থেকে উপরে উঠাতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, টটেনহ্যাম এখন বেতন কাঠামোকে পুনর্গঠন এবং গ্রীষ্মে দলকে শক্তিশালী করার দ্বিমুখী পরিকল্পনা চালু করেছে। রিগ্রেশন এড়াতে সফল হলে, ক্লাবের আর্থিক নীতি ও খেলোয়াড়ের বেতন উভয়ই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মুখে থাকবে।



