আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীরা শাহবাগ থানার সামনে সমাবেশ করে পুলিশকে নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ র্যালি পরিচালনা করে। র্যালি ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত চলেছে এবং পরে একটি প্রতিনিধিদল থানায় প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে। এই প্রতিবাদের মূল দাবি হল গতকাল সুহরাওয়ার্দি উদ্যানের মাদকদ্রব্য দমন অভিযানে ছাত্র ও সাংবাদিকদের ওপর করা আক্রমণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
গতকাল সুহরাওয়ার্দি উদ্যানের মাদক দমন অভিযান চলাকালে, মানববিদ্যা বিভাগের ছাত্র নঈম উদ্দিন এবং দুইজন সাংবাদিককে পুলিশ আক্রমণ করে বলে জানা যায়। নঈম উদ্দিন বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মেট্রোপলিটন ইউনিটের সমন্বয়কারীও ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য ছাত্রদের মতে, পুলিশ গুলি চালায় না, তবে শারীরিকভাবে ধাক্কা ও ধরা দিয়ে আক্রমণ করেছে।
র্যালিতে নঈম উদ্দিন উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন তোলেন, “শাহবাগ থানা এত কাছে থাকা সত্ত্বেও সুহরাওয়ার্দি উদ্যানের মাদক সিংহদ্বার কীভাবে কাজ করে চলেছে?” তিনি উল্লেখ করেন, নিকটবর্তী থানা থাকা সত্ত্বেও মাদকদ্রব্যের অবৈধ লেনদেন অব্যাহত রয়েছে। তার বক্তব্যে ছাত্রদের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে না।
নঈমের আরেকটি মন্তব্যে তিনি বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তাই আজ এখানে এতজন জমায়েত হয়েছে। সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে এ রকম মিডিয়া কভারেজ বা জনসাধারণের সমাবেশ দেখা যায় না।” এই কথা থেকে স্পষ্ট যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ ও সমর্থন রয়েছে, যা অন্য কোনো গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ততটা না।
অধিকন্তু, নঈম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রামের ঐতিহ্য অব্যাহত রাখবে।” এই বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও সক্রিয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদে তিনটি স্পষ্ট দাবি উপস্থাপন করা হয়। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে অপ্রয়োজনীয় পুলিশিং বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। দ্বিতীয়ত, গতকাল ঘটিত আক্রমণের জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি করা হয়। তৃতীয়ত, আইনের আওতায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রস্তাব দেয়া হয়। এই দাবিগুলো ছাত্রদের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রতিবাদের শেষের দিকে, বিকেল ৩ টায় শাহবাগ থানার সাব-ইনস্পেক্টর মাইনুল ইসলাম জানান, প্রতিবাদকারীরা এলাকাটি ত্যাগ করেছে। তিনি যোগ করেন, “প্রতিবাদকারীরা তদন্তের দাবি নিয়ে এবং ডি.সি. মাসুদ আলমের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে থানা ছেড়েছে।” এছাড়া, এডিসি আসাদুজ্জামানও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করে, এরপরই ছাত্ররা থানা থেকে বেরিয়ে যায়।
সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা বাড়ছে। মিডিয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রতিবাদে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক কভারেজ হয়েছে, যা বিষয়টির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের পুলিশি আক্রমণ বা অন্যায়ের শিকার হন, তবে ঘটনাস্থলের ছবি, ভিডিও ও সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহ করুন এবং তা দ্রুত মানবাধিকার সংস্থা বা আইনজীবীর সঙ্গে শেয়ার করুন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে আইনি সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।
এই ধরনের প্রতিবাদ ও দাবি সমাজে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার চাহিদা তুলে ধরে, এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে।



