ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মানবাধিকার বিশ্লেষক অ্যান মার্লবোরো ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ঢাকা শহরের কমিশন কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকারের মূল লক্ষ্য ছিল ইউইউ মিশনের কাজের পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারণ।
মিটিংটি মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, কমিশনের প্রধান অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সময়মতো উপস্থিত হয়ে আলোচনার সূচনা করেন এবং বৈঠকের সময়সূচি অনুযায়ী বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করেন।
অ্যান মার্লবোরো ইউইউ মিশনের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেন। তিনি সম্প্রতি প্রকাশিত প্রিলিমিনারি স্টেটমেন্টের মূল বিষয়গুলো চেয়ারপার্সনের নিকট তুলে ধরেন, যেখানে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ভোটার অংশগ্রহণ এবং প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নির্বাচনকালীন সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রের সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলোও গভীরভাবে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই স্বীকার করেন যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় ঘটতে পারে এমন অশান্তি ও দমনমূলক কার্যক্রমের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
চেয়ারপার্সন মইনুল ইসলাম চৌধুরী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সম্প্রসারণের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নতুন আইনি কাঠামো অধীনে কমিশনের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন অধ্যাদেশের অধীনে কমিশনের সদস্য ও কর্মচারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে মানবাধিকার সুরক্ষা, শিকায়তকারীদের সহায়তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্পদ ও প্রক্রিয়া যুক্ত হবে, যা পূর্বের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করবে।
চেয়ারপার্সন সরকারকে দ্রুত এই অধ্যাদেশকে আইনগত রূপে রূপান্তরিত করার আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে আইনগত স্বীকৃতি পেলে কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, ফলে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কমিশন তার আইনি অধিকার ও ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করে দেশের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, ন্যায়সঙ্গত শাস্তি এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
সাক্ষাৎকারের সমাপ্তিতে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারা একসাথে কাজ করে দেশের মানবাধিকার মানদণ্ডকে উন্নত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন।
এই মিটিংয়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে মানবাধিকার সংক্রান্ত তদারকি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে মানবাধিকার সংরক্ষণে অতিরিক্ত নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ভূমিকা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউইউ মিশনের বিশ্লেষক অ্যান মার্লবোরো উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করতে সহায়তা করে। তিনি ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে চায়।
সর্বোপরি, এই সাক্ষাৎকারটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ইউইউ মিশনের মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দেশের মানবাধিকার কাঠামোর উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।



