ক্যাবিনেট বিভাগ আজ একটি চিঠির মাধ্যমে সকল সরকারী, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি ও প্রস্থানের কঠোর অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনা আজই উচ্চতর সচিব ও সচিবগণ, মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় প্রধান, জেলা ও উপজেলা কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারী কর্মচারীর (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধি, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশনা, ২০২৪-র ধারা ৮৬ অনুসারে, প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অফিসে নির্ধারিত সময়ে প্রবেশ ও প্রস্থান করা বাধ্যতামূলক। সময়সূচি মেনে না চললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের অধীনস্থ অফিসগুলোকে এই নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে কর্মীরা যদি সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্য কোনো ছুটির দিনে কাজের স্থান ত্যাগ করতে চান, তবে তা পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না।
এই পদক্ষেপের পেছনে সরকারী কর্মশক্তির উপস্থিতি ও সময়নিষ্ঠা বাড়িয়ে সরকারি সেবা গুণগত মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারী দপ্তরের কাজের গতি ধীর হওয়া এবং অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট ব্যাঘাতের অভিযোগগুলোকে দমন করার জন্য এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিরোধী দলগুলো অতীতে সরকারি কর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। তারা এই নতুন নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, সময়নিষ্ঠা নিশ্চিত হলে জনসেবা দ্রুত ও কার্যকর হবে। তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ধরনের কঠোর নিয়মাবলী সরকারী কর্মীদের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন নির্বাচন পর্যায়ে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অধিকন্তু, সরকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি রেকর্ডের স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ডিভাইস বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হতে পারে, যা পর্যালোচনা ও তদারকি সহজ করবে।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে উপস্থিতি রিপোর্ট উপস্থাপন করতে হবে এবং কোনো লঙ্ঘন হলে তা দ্রুত শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। সরকারী কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের সময় এই উপস্থিতি রেকর্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ক্যাবিনেটের এই উদ্যোগ সরকারী কর্মশক্তির শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং জনসেবার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। যদিও বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, বাস্তবায়নের সময় সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই নীতির কার্যকারিতা এবং তার প্রভাব কীভাবে সরকারী সেবার গুণগত মানে প্রতিফলিত হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



