মশা উপদ্রবের তীব্রতা বাড়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম আজ জাতীয় বিমানবন্দরগুলোতে মশানাশক ওষুধ ছিটানোর জরুরি নির্দেশ জারি করেছেন। এই নির্দেশনা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসের আরএডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রদান করা হয়।
মন্ত্রীর আদেশে সব আন্তর্জাতিক ও দেশীয় টার্মিনাল, পাশাপাশি বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকা ও অপেক্ষা ঘরে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎক্ষণাৎ স্প্রে কাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট সিভিল এয়ারপোর্ট অথরিটি (সিএএ) ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মশা দমনের পাশাপাশি যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর মতে, পরিষ্কার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মশা বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রলি সংকটের সমাধানকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমান ট্রলি ঘাটতি যাত্রীদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে আফরোজা খানম দ্রুত ১,০০০টি নতুন ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ট্রলি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে যাতে শীঘ্রই সেবা পুনরায় চালু করা যায়।
মন্ত্রীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হল যাত্রীদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিত করা। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও কর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিকন্তু, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের সময়সূচি মেনে চলা না হলে সেবার মানে প্রভাব পড়তে পারে, এ বিষয়টি মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছিলেন।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। উভয়ই মন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সমন্বয় ও তদারকি করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এই পদক্ষেপগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের বিমানসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনী সময়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যবহুল বিমানবন্দর নিশ্চিত করা ভোটারদের মধ্যে সরকারে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মশানাশক ছিটানোর কাজের অগ্রগতি ও ট্রলি সংগ্রহের প্রক্রিয়া পরবর্তী সপ্তাহে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিয়মিত রিপোর্ট জমা দিতে এবং কোনো বাধা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সমাধান করতে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দরের পরিবেশ ও সেবার মান উন্নত করার এই উদ্যোগগুলোকে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পর্যটন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের কৌশলগত অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বশেষে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়ই সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একত্রে কাজ করতে এবং সময়মতো ফলাফল প্রদান করতে আহ্বান জানিয়ে সভা সমাপ্ত করেন।



