মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের বৈরুত শহরে অবস্থিত তার দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী প্রত্যাহার করেছে, একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার ফলে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৩০ থেকে ৫০ জন কর্মীকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ গার্ডিয়ান সূত্রে জানা যায়, বৈরুতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মার্কিন দূতাবাসের কর্মী হ্রাসের সিদ্ধান্ত ইরান‑সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য আক্রমণ ঝুঁকি বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ না করেও সীমিত পরিসরে চালু রাখা হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়া অন্য সকল কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৌশলগত সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর এই পদক্ষেপ অঞ্চলীয় শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে তৃতীয় পরোক্ষ আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একত্রিত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, তিনি এমন একটি অর্থবহ চুক্তি চান যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে বাধা দেবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে”।
এটি প্রথমবার নয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মী প্রত্যাহার করেছে। ২০২৫ সালে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার পূর্বে ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকেও অপ্রয়োজনীয় কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ঐ সময়ে একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “পররাষ্ট্র দফতর বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার পর আমরা মনে করেছি, কেবল প্রয়োজনীয় কর্মী রেখে উপস্থিতি কমানোই যুক্তিসংগত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত হলেও সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না।
মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, উত্তেজনা যদি যুদ্ধের রূপ নেয় তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে অথবা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র ও প্রক্সি বাহিনীগুলোকে সক্রিয় করতে পারে। এই সম্ভাবনা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি সমন্বিতভাবে গৃহীত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পদক্ষেপগুলো ইরানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা। জেনেভায় নির্ধারিত তৃতীয় রাউন্ডের পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে পারমাণবিক চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করা হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েনের সময়সীমা এবং কর্মী প্রত্যাহারের পরিধি পরবর্তী সপ্তাহে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের দূতাবাসে কর্মী হ্রাস, সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার তৃতীয় রাউন্ডের প্রস্তুতি একসঙ্গে পরিচালনা করছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা গতিবিধি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে।



