গত সোমবার সকাল প্রায় ছয়টায় দাউদকান্দি উপজেলার মালিখিল এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লেগে দুজনের প্রাণ ত্যাগ হয়। মাইক্রোবাসটি কুমিল্লা থেকে বিমানবন্দরে মেহেদী হাসান (২৫)কে পৌঁছে দিতে যাত্রা করছিল, আর পথে ট্রাক থেমে যাওয়ায় পেছন থেকে আঘাত পায়।
মাইক্রোবাসে ছিলেন চালক মো. শাহীন (৪০) এবং তার সঙ্গে যাত্রা করছিলেন মেহেদীর পরিবার। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পিতা জয়নাল আবেদীন (৫৫), স্ত্রী সানজিদা আক্তার (১৮), দুই কন্যা ফারজানা আক্তার (১০) ও মো. ইমন (১৫), এবং ছোট ভাই ইব্রাহিম খলিল (১৪)। সবাই একসাথে কুমিল্লা থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
মালিখিল এলাকায় একটি ট্রাক হঠাৎ থেমে যাওয়ায় পেছন থেকে আসা মাইক্রোবাসটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে গাড়ির সামনের অংশ ভেঙে যায় এবং চালক ও কিশোর ইব্রাহিমের প্রাণ ত্যাগ হয়। গাড়ির অন্যান্য যাত্রীদের কোনো গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে মেহেদী হাসানও এই ঘটনার ফলে হালকা আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
মৃত্যু পায় মাইক্রোবাসের মালিক ও চালক মো. শাহীন এবং কিশোর ইব্রাহিম খলিল। ইব্রাহিম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দুয়া গাউছিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং তার দেহ একই দিনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার দাফনকালে পরিবারের সদস্যদের শোকের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
মেহেদী হাসানের সৌদি আরবের ফ্লাইট ছিল গতকাল দুপুর ১টা ২০ মিনিটে, এবং তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তাকে সময়মতো রওনা হতে হতো। ছোট ভাইয়ের দেহ দাফন না করেই মেহেদীকে সৌদিতে উড়ে যেতে হয়। শোকের মাঝেও তাকে কাজের তাগিদ ও ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার চাপের মুখে রওনা হতে হয়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় পুলিশ মাইক্রোবাসটি হেফাজতে নেয় এবং ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানান, গাড়ির টেকসইতা, চালকের গতি ও ট্রাকের থামার কারণ ইত্যাদি বিষয় তদন্তের অধীনে রয়েছে।
পুলিশের মতে, ট্রাকের হঠাৎ থামা এবং মাইক্রোবাসের পেছন থেকে আঘাতের সংমিশ্রণই প্রধান কারণ। গাড়ির ফ্রন্টের ধ্বংসাবশেষ থেকে স্পষ্ট হয় যে গতি কম ছিল না, ফলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা খায়। তদন্তে ট্রাকের চালকের বিবৃতি, গাড়ির রেকর্ডিং ডিভাইসের তথ্য এবং সিএসভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মেহেদীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি শোকের মাঝেও রওনা হতে বাধ্য হয়েছেন। ছোট ভাইয়ের দেহ না দইয়ে রওনা হওয়া তার জন্য বড় মানসিক কষ্টের বিষয়। যদিও পরিবারটি জীবিকার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, তবু শোকের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রাকের হঠাৎ থামা এবং মাইক্রোবাসের পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে রাস্তায় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হতে পারে। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে গাড়ি হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্ত চলমান।



