মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জামায়াত-এ-ইসলামির তৃতীয় সংসদ নির্বাচিত এমপি মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আরমান নগদে একটি বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং কোম্পানির ডিজিটাল ব্যাংকিং সেক্টরে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকের সময় গভর্নর জানান যে, নতুন সরকার গঠনের পর নগদের মালিকানা ও বিনিয়োগ নীতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নির্ধারিত হয়নি। তিনি আরমানকে জানিয়ে দেন যে, সরকার যদি interim সরকারের মতোই নগদকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেয়, তবে বিনিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো শুরু হতে পারে।
আরমানের মতে, নগদে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলি মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ক্ষেত্রে সুযোগ দেখছে এবং interim সরকারের সময় থেকেই তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্র অনুসন্ধান করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কোম্পানিগুলোর জন্য তিনি আইনি সহায়তা প্রদান করছেন এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমানের পেশাগত পটভূমি উল্লেখযোগ্য; তিনি পূর্বে ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন তিনি সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আইনি সেবা প্রদান করে নগদের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকে সহজতর করার চেষ্টা করছেন।
বিনিয়োগের উৎস দেশ বা এজেন্ট সম্পর্কে আরমান স্পষ্টতা দেননি, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিনিয়োগকারীরা মূলত ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার উন্নয়নে আগ্রহী। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, নগদে বিনিয়োগের লাভজনকতা যাচাই করার জন্য একটি অডিটের প্রয়োজন এবং এজন্য তিনি গভর্নরের কাছে চিঠি লিখে অডিটের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
নগদের মালিকানা নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান এখনও অনিশ্চিত থাকায় আরমানকে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এমপি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নগদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। তবে তিনি বলেন, interim সরকারের সময় থেকেই নগদে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সরকারী নীতির স্পষ্টতা পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
এই বৈঠকটি নগদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বিদেশি মূলধনের প্রবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করেছে। সরকার যদি নগদকে বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেয়, তবে দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতে নতুন সুযোগের দরজা খুলে যাবে। অন্যদিকে, যদি নতুন সরকার নগদের মালিকানা নিয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তবে বিনিয়োগের গতি ধীর হতে পারে।
গভর্নরের মন্তব্য এবং আরমানের ব্যাখ্যা উভয়ই নির্দেশ করে যে, নগদের উপর সরকারী নীতি নির্ধারণের আগে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও অডিট প্রয়োজন। ভবিষ্যতে সরকারী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নগদের মালিকানা কাঠামো ও বিনিয়োগের শর্তাবলী পুনর্গঠন হতে পারে, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে।
এই প্রেক্ষাপটে, আওয়ামী লীগ শাসনকালে গৃহীত নীতি ও নতুন সরকারের সম্ভাব্য পরিবর্তন উভয়ই নগদের ভবিষ্যৎ গঠন করবে। আরমানের মতামত ও তার পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে সহায়ক হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত সরকারী সিদ্ধান্তই বিনিয়োগের বাস্তবায়নকে নির্ধারণ করবে।



