30.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবালুকা গার্মেন্টস কর্মীর হত্যায় আরেক সন্দেহভাজন গ্রেফতার, জেলায় পাঠানো

বালুকা গার্মেন্টস কর্মীর হত্যায় আরেক সন্দেহভাজন গ্রেফতার, জেলায় পাঠানো

ময়মনসিংহের বালুকা থানা এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডে আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী মি. মদ বাবলু মিয়া, দুবালিয়াপাড়া এলাকার চা দোকান মালিক, রবিবার রাত প্রায় নয়টায় ডিটেকটিভ শাখা থেকে গৃহবন্দি করা হয়।

গ্রেফতারকৃতকে একই দিন বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয় এবং সেকশন ১৬৪ অনুসারে তার স্বীকারোক্তি নথিভুক্ত করা হয়। স্বীকারোক্তি রেকর্ডের পর তাকে জেলায় পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বাবলু মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং কারখানার গেটে মানুষকে একত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ভিড়কে স্লোগান দিয়ে উস্কে দিয়ে হিংসা বাড়াতে সহায়তা করেন বলে বলা হয়েছে।

বালুকা ডিটেকটিভ শাখার অতিরিক্ত সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া তিনজন মূল সাক্ষী সেকশন ১৬৪ অনুসারে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ১২ জন সন্দেহভাজন স্বীকারোক্তি জমা দিয়েছেন।

মামুন আরও উল্লেখ করেন, অবশিষ্ট পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য জেলা ডিটেকটিভ শাখা সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা।

দীপু চন্দ্র দাস, ২৭ বছর বয়সী, ত্রাকান্দা উপজেলা মকামিয়া কান্ডা গ্রাম থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী, দুবালিয়াপাড়া, বালুকা এলাকায় পায়োনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডে দুই বছর কাজ করতেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দীপুকে একটি ভিড় প্রথমে মারধর করে হত্যা করে, পরে তার দেহকে আগুনে জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়। এই হিংসাত্মক কাজের পেছনে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তার কিছু মন্তব্যের অভিযোগ ছিল।

দীপুর ছোট ভাই আপু চন্দ্র দাস বালুকা মডেল থানা স্টেশনে মামলা দায়ের করেন এবং ১৫০ অজানা ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। মামলায় উল্লেখিত নামগুলো এখনও সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বালুকা থানার তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে কিছু লোক হিংসা উস্কে দেওয়ার জন্য স্লোগান ব্যবহার করেছিল এবং গোষ্ঠীভুক্ত হয়ে কাজ করেছিল। এই ধরনের সংগঠিত হিংসা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বাবলু মিয়ার স্বীকারোক্তি রেকর্ডের পর তাকে জেলায় পাঠানো হয়, যেখানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে তার দোষ স্বীকার করে। আদালত তার জেলায় থাকা সময়ে অতিরিক্ত তদন্তের অনুমতি দিয়েছে।

পুলিশের মতে, স্বীকারোক্তিতে বাবলু মিয়া স্বীকার করেছেন যে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং ভিড়কে একত্রিত করতে সহায়তা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে ভিড়ের মধ্যে কিছু লোক হিংসা বাড়াতে স্লোগান ব্যবহার করেছিল।

এই ঘটনার পর থেকে বালুকা জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং হিংসা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ একসাথে কাজ করছে। স্থানীয় জনগণও এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

দীপু চন্দ্র দাসের পরিবার এখনো শোকাহত, তবে তারা আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবারকে নিয়মিত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।

বালুকা ডিটেকটিভ শাখা ভবিষ্যতে বাকি পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং মামলাটি দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে। এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের আইনের শাসনে আনতে সহায়তা করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments