নিউক্যাসল দল ইউরোপীয় পর্যায়ে গর্ডনের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর এভারটনের সঙ্গে টাইনসাইডে মুখোমুখি হতে চলেছে। গর্ডন গত সপ্তাহে কারাবাগের বিরুদ্ধে চার গোল করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছেন, আর মঙ্গলবার স্ট জেমস পার্কে দ্বিতীয় লেগের জন্য প্রস্তুত। এই ম্যাচগুলো দলকে শীর্ষ সম্মান জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে।
অ্যান্থনি গর্ডনের ইউরোপীয় রেকর্ড চমকপ্রদ; চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনি নয়টি ম্যাচে দশটি গোলের হিট তালিকায় রয়েছেন। একই সময়ে প্রিমিয়ার লিগে তার তিনটি গোলের সংখ্যা ২১টি উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ, যার মধ্যে দুটো পেনাল্টি। এই পার্থক্য গর্ডনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অধিক আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয়।
গর্ডন এখনো ডান বা বাম ফ্ল্যাঙ্কে নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে সেন্টার-ফরোয়ার্ডে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এই পরিবর্তন তাকে দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে আরও বহুমুখী করে তুলেছে। তবে তার ভূমিকা পরিবর্তন সত্ত্বেও, গর্ডনের গতি ও শক্তি নিউক্যাসলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইডি হাউয়ের দল ইউরোপীয় ম্যাচে একদম অপ্রতিরোধ্য, কিন্তু দেশীয় লিগে কখনও কখনও অকার্যকর হয়ে দাঁড়ায়। এই দ্বৈততা নিউক্যাসলের বর্তমান পারফরম্যান্সের মূল বৈশিষ্ট্য, যেখানে এক ম্যাচে তারা শীর্ষে, অন্য ম্যাচে মাঝারি ফলাফল দেখায়। হাউয়ের কৌশলগত পরিবর্তনগুলো ইতিমধ্যে দলকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে গেছে, তবে শীর্ষ সম্মান অর্জনের জন্য আরও উন্নতি দরকার।
মঙ্গলবারের দ্বিতীয় লেগে নিউক্যাসল স্ট জেমস পার্কে কারাবাগের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে গর্ডন আবার আক্রমণ চালানোর দায়িত্বে থাকবে। পূর্বের প্রথম লেগে তিনি চার গোল করে দলকে বড় সুবিধা দিয়েছিলেন, তাই তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হবে। ম্যাচটি রাতের সময় অনুষ্ঠিত হবে, যা ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবে।
গর্ডনের চার গোলের পারফরম্যান্সে তার দ্রুততা ও ধারাবাহিক শক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা নিক ওলটেমেডে ও ইয়োয়ান উইসার মতো সহকর্মীদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য। তবে এই উচ্চগতির খেলায় কিছু দুর্বলতা লুকিয়ে আছে, যা এভারটনের সঙ্গে আসন্ন টাইনসাইডের ম্যাচে প্রকাশ পেতে পারে। গর্ডনের আক্রমণাত্মক চিন্তাধারা এখনও পুরোপুরি পরিপূর্ণ নয়।
গর্ডন সম্প্রতি বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলগুলো বেশি খোলা এবং সঠিক ফুটবল খেলতে চায়, যেখানে প্রিমিয়ার লিগে শারীরিকতা বাড়ছে। তিনি তুলনা করে বললেন, প্রিমিয়ার লিগের গেম এখন বাস্কেটবলের মতো দ্রুত দৌড় ও দ্বন্দ্বে ভরপুর। এছাড়া লং থ্রো এবং সেট-পিসের ব্যবহার বাড়ছে, যা দলের কৌশলে প্রভাব ফেলছে।
ইডি হাউয়ের ট্যাকটিক্যাল বিবর্তন ইতিমধ্যে দলকে ইউরোপীয় মঞ্চে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে শীর্ষ সম্মান জয়ের জন্য আরও সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি আক্রমণ ও রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন পদ্ধতি অনুসন্ধান করছেন। এই প্রক্রিয়া দলকে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করবে।
শারীরিক দিক থেকে নিউক্যাসল প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে অ্যাথলেটিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, শুধুমাত্র বোর্নমাউথের পরে। তাদের উচ্চপ্রেশার ও তীব্রতা প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে সৃজনশীলতা ও পাসিংয়ে কিছু ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি সম্ভবত তাদের ১১তম স্থানে, ৩৬ পয়েন্টে সান্ডারল্যান্ডের সঙ্গে সমান অবস্থানে থাকা কারণ।
বর্তমানে নিউক্যাসল ১১তম স্থানে রয়েছে, ৩৬ পয়েন্টে সান্ডারল্যান্ডের সঙ্গে সমান। এই অবস্থান দলকে শীর্ষ আটের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ধারাবাহিকতা না থাকলে শীর্ষে উঠা কঠিন হবে।
শুক্রবারের শেষে এভারটন নিউক্যাসলের সঙ্গে টাইনসাইডে মুখোমুখি হবে, যা হাউয়ের দলকে দেশের লিগে তাদের ইউরোপীয় ফর্ম বজায় রাখতে পরীক্ষা করবে। গর্ডনের ভূমিকা এবং হাউয়ের কৌশলগত সমন্বয় এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখবে। ভক্তদের জন্য এই ম্যাচটি উত্তেজনা ও প্রত্যাশার মিশ্রণ নিয়ে আসবে।
সারসংক্ষেপে, নিউক্যাসল ইউরোপীয় মঞ্চে গর্ডনের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, তবে প্রিমিয়ার লিগে শারীরিকতা ও সেট-পিসের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। হাউয়ের ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে গেছে, তবে শীর্ষ সম্মান জয়ের জন্য ধারাবাহিকতা ও সৃজনশীলতা প্রয়োজন। আসন্ন কারাবাগ ও এভারটন ম্যাচগুলো দলকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে।



