30.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঈদগাহে অংশগ্রহণে ইউনূস সরকারের বাধা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঈদগাহে অংশগ্রহণে ইউনূস সরকারের বাধা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে জাতীয় ঈদগাহে উপস্থিত হতে তাকে ইউনূস সরকারের বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে প্রতিটি রাষ্ট্রপতি ঐ দুইটি ঈদে জাতীয় ময়দানে অংশগ্রহণের রীতি বজায় রয়েছে, তবে বর্তমান সরকার তা রোধ করেছে।

সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়, আর দ্বিতীয় ও শেষ অংশ আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমাকে যেন এই প্রাসাদে (বঙ্গভবন) গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল” এবং নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে তাকে জানানো হয় যে, ঈদ নামাজে জাতীয় ময়দানে যাওয়া যাবে না। তিনি এ কথা স্পষ্ট করে বলেন, “দুইটি ঈদের নামাজে আমাকে জাতীয় ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি।”

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে প্রতিটি রাষ্ট্রপতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহারে জাতীয় ময়দানে উপস্থিত হয়ে মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত করেন। এই রীতি দেশের ধর্মীয় ঐক্য ও জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের সরকার এই ঐতিহ্যকে বাধা দিয়েছে, যা তিনি “প্রতিবন্ধকতা” শব্দে বর্ণনা করেছেন।

ইউনূস সরকারের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশে রাষ্ট্রপতি জানেন যে, তিনি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাতীয় ঈদগাহে উপস্থিত হতে পারবেন না। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আপনি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না”। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রপতি এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বঙ্গভবনে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি জানান, এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দিবসে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়েছেন, তবে তিনি উপস্থিত হননি। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, যদিও সংবিধানগতভাবে রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়। তিনি বলেন, “সৌজন্যবোধের দিক থেকে এই রীতি বজায় রাখা উচিত” এবং বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহ্যবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সরকার-রাষ্ট্রপতি সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে। ইউনূস সরকারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের রাজনৈতিক গণনা রয়েছে, তা ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হবে। রাষ্ট্রপতি ও সরকার উভয়েরই জনমত গঠন ও ধর্মীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে, যা এখন স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই বিরোধের ফলে সরকার-রাষ্ট্রপতি সংলাপের গতি ধীর হতে পারে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ঐতিহ্য রক্ষা করা উচিত, যা দেশের ঐক্যবদ্ধ চিত্র বজায় রাখে।

সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিবৃতি অনুযায়ী, ইউনূস সরকারের নিরাপত্তা নির্দেশনা তাকে জাতীয় ঈদগাহে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে, যা ঐতিহ্যগত রীতি ও ধর্মীয় সংহতির ওপর প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এবং সরকার-রাষ্ট্রপতি সম্পর্কের পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments