রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৫ আগস্টের জনবিস্ফোরণের পর জরুরি অবস্থা জারির জন্য চাপ ও প্রতিবিপ্লবের প্রচেষ্টা সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই সময়ে দেশের শীর্ষ স্তরে জরুরি অবস্থা আরোপের জন্য বিভিন্ন প্রকারের প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী লীগ শাসনের শেষের সূচনা করে, ফলে সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। একই দিনে শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রী, ভারতে গমন করেন এবং শাসন কাঠামো অস্থির হয়ে পড়ে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণ করেন, যা ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পাঁচ বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করে। তার পূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে কাজ করার সময় তাকে “সাহাবুদ্দিন চুপপু” নামে পরিচিত করা হতো।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, যদিও এই পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক এবং কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। তার শাসনকালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ মাসে তিনি ছাত্র-জনতার বৃহৎ অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হন, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে সরকারী কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে।
দৈনিক কালের কণ্ঠের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, জরুরি অবস্থা জারির জন্য কোনো গুজব বা গোপন আলোচনা হয়নি। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সময়মতো ও সঠিকভাবে পালন করা স্মরণীয়।
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী ইচ্ছা করলে মার্শাল ল দিতে পারত এবং জরুরি অবস্থা আরোপের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি হাতে থাকায় তার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এই চাপের ফলে বিভিন্ন স্তর থেকে তাকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবিপ্লবের উদ্যোগের কথাও তিনি স্বীকার করেন, যদিও তা প্রকাশ্যে না গিয়ে গোপনে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, সেই সময়ে কিছু গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের জন্য জটিলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন এজেন্সি সক্রিয় হয়ে থাকে এবং তারা নিজেদের স্বার্থে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে কিছু সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা প্রচেষ্টা চালায়।
এই প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকারকে নিরাপত্তা ও শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে, রাষ্ট্রপতি এবং সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমত গঠন হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



