শেরপুরের নালিতাবাড়ি পৌর শহরের উত্তরবাজারে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ মালামাল সরিয়ে ট্রাফিক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদে থেমে যায়।
রমজান মাসে যানবাহন ও পথচারীর চলাচল বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালু করেছিল।
গত শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান নালিতাবাড়ি থানা অফিসের ওয়াসি অফিসার আশরাফুজ্জামানকে নিয়ে প্রধান সড়কের দুপাশে দখল করা ব্যবসায়িক সামগ্রী সরিয়ে ট্রাফিক স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন।
এইয়েই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সোমবার বিকালে একই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পুনরায় গঠন করা হয়, যাতে উত্তরবাজার ও মধ্যবাজারের প্রধান রাস্তায় জমা থাকা মালামাল জব্দ করা যায়।
মালামাল জব্দের সময় ব্যবসায়ীরা আদালতের কাজের বিরোধিতা করে, গাড়ি থামিয়ে এবং জোরালো প্রতিবাদে আদালতের কর্মীদের বাধা দেয়।
সেই মুহূর্তে নালিতাবাড়ি শহরের সাবেক পৌর মেয়র ও বিএনপি সাবেক আহবায়ক আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে জিজ্ঞাসা করেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে কি না জানতে চান।
আনোয়ার হোসেন আদালত বন্ধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানান, যা আদালতকে অবিলম্বে কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য করে।
অপরদিকে, নালিতাবাড়ি ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অধিকার প্রশাসনের হাতে, তবে স্বেচ্ছাসেবী দলকে নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে মালামাল জব্দের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
আনোয়ার হোসেনের মতে, মোবাইল কোর্টের নামে ব্যবসায়ীদের বারবার হয়রানি করা হচ্ছে এবং এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
থানার ওয়াসি অফিসার মো. আশরাফুজ্জামান জানান, শনিবার ব্যবসায়ীদেরকে রাস্তার ওপর মালামাল না রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে আজকের ঘটনার পর যদি উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো অভিযোগ আসে তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও পৌর পরিষদের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, উচ্ছেদ অভিযানকে বাধা দেওয়ার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ উদ্যোগের জন্য প্রক্রিয়াগত নির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে, ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক নেতাদের মতবিরোধের সমাধান না হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনসেবা প্রদানেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে, তাই উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা গড়ে তোলার আহ্বান করা হচ্ছে।



