ডোনেটস্কের পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা তীব্র শত্রু আক্রমণের মাঝেও সড়ক রক্ষার জন্য বিশাল জাল ব্যবহার করে চলেছে। এই জালগুলো রাস্তায় ড্রোনের আক্রমণ থামাতে এবং গৃহস্থালি গাড়ি ও সামরিক যানবাহনকে সুরক্ষিত রাখতে স্থাপন করা হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারের হেডলাইটে জালের সিলুয়েট ঝলমল করে, যখন আমাদের গাড়ি তীব্র গুলিবিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে। জালগুলো প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার কাঠের খুঁটির ওপর ঝুলিয়ে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত, রাস্তাটিকে একটি শারীরিক বাধা হিসেবে কাজ করে।
ড্রোনের প্রোপেলার জালে আটকে গেলে তা দ্রুত থেমে যায়, ফলে ড্রোনের আক্রমণ কমে যায়। রাশিয়ান অপারেটর যদি ড্রোনে বিস্ফোরক ব্যবহার করে তবু বিস্ফোরণ রাস্তায় চলমান গাড়ি ও বাসের কাছে যথেষ্ট নিকট না হলে ক্ষতি কমে যায়।
এই জালের বেশিরভাগই ইউরোপীয় মৎস্যজীবীদের দান। স্কটল্যান্ডের সরকার সম্প্রতি ২৮০ টন স্যামন জাল পুনর্ব্যবহারের আগে ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জালগুলো ব্যবহার করার আগে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ড্রোনকে আঘাত করে তার শক্তি পরীক্ষা করে।
ড্রোনের আক্রমণ রোধে ব্যবহৃত জালগুলোকে ‘প্রথম-দৃষ্টিকোণ’ (FPV) ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মধ্যে একটি। FPV ড্রোনের ক্যামেরা রিয়েল-টাইম ভিডিও সরাসরি দূরবর্তী কন্ট্রোল সেন্টারে পাঠায়, যেখানে অপারেটররা তা বিশ্লেষণ করে।
এই কন্ট্রোল সেন্টারগুলো প্রায়শই ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের তলায় বা সাধারণ গ্রামবাড়িতে গোপনে স্থাপন করা হয়। সেখানে একাধিক স্ক্রিনে ড্রোনের ভিডিও ও ডেটা প্রদর্শিত হয়, যা ইউক্রেনীয় সামরিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।
সফটওয়্যারটি ছোট ছোট সৈন্যদের চলাচল ট্র্যাক করে, ক্যামেরা দিয়ে তাদের অবস্থান নির্ণয় করে এবং রেডিও, কলসাইন ও হেডসেটের মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়। অপারেটররা রেডিওতে সৈন্যদের কলসাইন ও কোডনাম জানিয়ে দেয়, যাতে তারা নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত পৌঁছাতে পারে।
ড্রোনের মাধ্যমে শত্রু অবস্থান চিহ্নিত হয়ে সৈন্যরা সেই ভবনে প্রবেশ করে, যেখানে রাশিয়ান সৈন্য লুকিয়ে থাকে। ড্রোনের রেকর্ডিং থেকে দেখা যায়, ইউক্রেনীয় সৈন্যরা শত্রুকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করে এবং পরবর্তী মুহূর্তে তাদের ধ্বংস করে।
এই ধরনের ড্রোন আক্রমণ উভয় পক্ষের জন্যই বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং যুদ্ধের গতিপথকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে। ড্রোনের ব্যবহার কেবল আকাশ থেকে শত্রুকে লক্ষ্য করা নয়, বরং মাটিতে সৈন্যদের সমন্বয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডোনেটস্কের এই জটিল যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনও আত্মবিশ্বাসী এবং পরাজয়ের কোনো চিহ্ন দেখায় না। তারা আন্তর্জাতিক সমর্থন ও উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, যা তাদের মনোবলকে শক্তিশালী করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত সামগ্রী, বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের সামুদ্রিক জাল, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই উপকরণগুলোকে ড্রোনের আক্রমণ শোষণকারী শিল্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সামরিক পরিকল্পনায় নতুন উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত।
যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে, ড্রোন ও জালের সমন্বয় ইউক্রেনকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করে। এই কৌশলটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফলাফল।
সামগ্রিকভাবে, ডোনেটস্কে পর্যবেক্ষণ করা এই দৃশ্যগুলো দেখায় যে ইউক্রেনীয় বাহিনী আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে একত্রে ব্যবহার করে যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। তাদের এই দৃঢ়তা ও অভিযোজন ক্ষমতা ভবিষ্যতে সংঘাতের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে।



