বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ গতকাল বান্দরবানের নায়খংছড়ি উপজেলা অমতালি সীমান্তে তিনজন আরাকান আর্মি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে একই দিনে নায়খংছড়ি থানা-তে হস্তান্তর করা হয়।
সীমান্তে রাতের সময় গশধুমের অমতালি এলাকা থেকে গমনরত সন্দেহভাজনদের ওপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যরা তদারকি চালাচ্ছিলেন। গার্ডের দলটি সন্দেহজনক গতি লক্ষ্য করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তিনজনকে আটক করে।
হস্তান্তরের পর নায়খংছড়ি থানার অফিসার-ইন-চার্জ আবদুল বতেন মৃধা জানান, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে গ্রেপ্তার করা তিনজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজনরা নিজেদের আরাকান আর্মি সদস্য বলে স্বীকার করে। আরাকান আর্মি মিয়ানমারের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যা পূর্বে সীমান্তে অনিয়ন্ত্রিত গতি চালানোর জন্য দায়ী বলে রেকর্ডে রয়েছে।
হস্তান্তরের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে মিয়ানমার মুদ্রা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত মুদ্রার পরিমাণ ও ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে তা সীমান্তে অবৈধ লেনদেনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
থানার আইনগত বিভাগ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সীমান্ত লঙ্ঘন ও অবৈধ মুদ্রা বহনের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সীমান্তে অননুমোদিত প্রবেশ ও বিদেশি মুদ্রা বহন করা কঠোর শাস্তির আওতায় পড়ে।
এই ঘটনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গার্ডের তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপের গুরুত্ব পুনরায় জোরদার হয়েছে।
অধিক তদন্তের পর গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপের প্রক্রিয়া চালু থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।



