রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তে আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ২০২৬ সালের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেবেন। এই অনুষ্ঠান দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পের স্বীকৃতিকে উজ্জ্বল করে তুলবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠান সময়, স্থান ও প্রধান অতিথির তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ও তাদের অবদান পূর্বে নির্ধারিত হয়েছে। সরকার এই পদককে জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একুশে পদকের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মানের জন্য মনোনীত করা হয়। নির্বাচনের মানদণ্ডে দীর্ঘমেয়াদী অবদান ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত নৌকাপথে মোট নয়জন ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, স্থাপত্য, সঙ্গীত, নাট্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, ভাস্কর্য ও নৃত্যসহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিশিষ্ট সাফল্য অর্জন করেছেন।
চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা এই বছরের একুশে পদকের গ্রহীতা। তিনি বহু বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় ও পরিচালনায় অবদান রেখেছেন এবং তার কাজগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রশংসিত হয়েছে। এই স্বীকৃতি তার শিল্পী জীবনের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
চিত্রকলার ক্ষেত্রে অধ্যাপক আবদুস সাত্তারকে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সংমিশ্রণে অনন্য শৈলী গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রেও বহু তরুণ শিল্পীর পথপ্রদর্শক হয়েছেন। তার কাজগুলো দেশীয় ও বিদেশি গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে।
স্থাপত্যের ক্ষেত্রে মেরিনা তাবাশ্যুমের অবদান স্বীকৃত হয়েছে। তিনি টেকসই নকশা ও সামাজিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক শহুরে পরিবেশ গঠনে কাজ করেছেন। তার প্রকল্পগুলোতে পরিবেশ বান্ধব উপকরণ ও স্থানিক নকশা সমন্বিত হয়েছে, যা শহরের চেহারাকে রূপান্তরিত করেছে।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর) একুশে পদকের গ্রহীতা হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। তিনি বাংলা গানের আধুনিক রূপ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ সঙ্গীতশিল্পীদের মেন্টরিং করেছেন। তার সৃষ্টিগুলো আজও রেডিও ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে।
নাট্যকলার ক্ষেত্রে ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। তিনি নাট্য রচনায় সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধকে মঞ্চে তুলে ধরেছেন। তার নাটকগুলো বহুবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসবে পুরস্কার জিতেছে।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে শফিক রেহমানকে একুশে পদক প্রদান করা হবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সাংবাদিকতা অনুশীলন করেছেন। তার প্রতিবেদনে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদারকে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। তার শিক্ষামূলক পদ্ধতি ও পাণ্ডুলিপি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক জার্নালে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভাস্কর্য ও নৃত্যের ক্ষেত্রে তেজশ হালদার যশ এবং অর্থী আহমেদকে একুশে পদকের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। তেজশ হালদার যশের ভাস্কর্যগুলো ঐতিহ্যবাহী রূপকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করে, আর অর্থী আহমেদের নৃত্যকর্মে শাস্ত্রীয় ও সমসাময়িক নৃত্যের মিশ্রণ দেখা যায়। দুজনই তাদের শিল্পে নতুন ধারার সূচনা করেছেন।
সংগঠন হিসেবে ব্যান্ড দল ওয়ারফেজকে এই বছরের একুশে পদক প্রদান করা হবে। দলটি রক সঙ্গীতের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা ও আত্মপ্রকাশের নতুন পথ তৈরি করেছে। তাদের সঙ্গীতের বার্তা ও পারফরম্যান্স দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রদানের অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাইকে এই সম্মানগুলোকে সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করতে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হবে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হবে, তাই দর্শকরা ঘরে বসে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারবেন।



