বন্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানা জানায়, গুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী সীমান্ত এলাকা থেকে সোমবার সন্ধ্যাবেলায় আরাকান আর্মির তিনজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি বাংলাদেশ‑মিয়ানমার সীমান্তে ঘটেছে এবং পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আটক ব্যক্তিরা সীমান্ত পারাপারের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক ধরা পড়ে।
অধিকাংশ তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যরা সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার পর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে হস্তান্তর করেছে। হস্তান্তরের পর, পুলিশ দলটি আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মিয়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করেছে, যা সীমান্তে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দেয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ওসিরা আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যরা তাদের আটক করার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদেরকে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সদস্য বলে স্বীকার করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আটকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।”
আটকদের পরিচয় ও সংগঠন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ধারা অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যাবেন এবং যথাযথ আদালতে মামলা দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া ও শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীও ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “সোমবার সন্ধ্যায় গুমধুম ইউনিয়নের আমতলী সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে শুনেছি।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরণের সীমান্ত পারাপার অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পুলিশ সমন্বয়ে গৃহীত এই পদক্ষেপের পর, কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলমকে ফোন করে ঘটনাটির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফোনের উত্তর দেননি এবং কোনো মন্তব্য করেননি।
আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের রাকাইন রাজ্যে সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, পূর্বে সীমান্ত পারাপার ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত হয়েছে। এই ধরণের গোষ্ঠীর সদস্যদের সীমান্তে ধরা পড়া দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকারী সূত্রে জোর দেওয়া হয়।
পুলিশের মতে, সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ, মুদ্রা পাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফল সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।



