31.6 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৩৯ লাখের বেশি ই‑রিটার্ন দাখিল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৩৯ লাখের বেশি ই‑রিটার্ন দাখিল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ প্রকাশনা অনুযায়ী, চলতি করবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা ই‑রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এই তথ্যটি মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সহজ প্রক্রিয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ই‑রিটার্নের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ও ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেসের ফলে করদাতারা দ্রুত এবং নিরাপদে তাদের আয়কর রিটার্ন আপলোড করতে পারছেন। ফলে, পূর্বের তুলনায় ফিজিক্যাল ফর্ম জমা দেওয়ার চেয়ে অনলাইন পদ্ধতি অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা কর সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সকল ব্যক্তিগত করদাতাকে জানিয়েছে যে, ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে দাখিল করতে হবে। সময়সীমা অতিক্রম করলে দেরি শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকে, তাই করদাতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সুবিধা শুধু সময় সাশ্রয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কাগজপত্রের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশগত দায়িত্বেও অবদান রাখে। এছাড়া, রিয়েল‑টাইম ভ্যালিডেশন ও ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ থাকায় রিটার্নের সঠিকতা বৃদ্ধি পায়।

বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি করদাতাদের জন্যও নতুন রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, মোবাইলের পরিবর্তে করদাতার ই‑মেইলে ওটিপি (OTP) পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড রিসেট ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

বিশেষত, যারা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল নম্বর রেজিস্টার করে ই‑রিটার্ন সিস্টেমে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে বিদেশে থাকায় মোবাইল ওটিপি গ্রহণে অক্ষম, তাদের জন্য ই‑মেইল ভেরিফিকেশন বিকল্পটি কার্যকর করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ই‑মেইল ঠিকানা নিশ্চিত করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব।

নতুন ই‑মেইল ভিত্তিক ভেরিফিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নিরাপদ হয়েছে, ফলে বিদেশে থাকা করদাতারা কোনো অতিরিক্ত জটিলতা ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এটি করদাতার অভিজ্ঞতা উন্নত করে এবং সময়মতো রিটার্ন জমা নিশ্চিত করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতে, এই উদ্যোগের ফলে বিদেশে বসবাসকারী করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সামগ্রিক রিটার্ন সংগ্রহের হার উন্নত হবে। তদুপরি, ই‑রিটার্নের ব্যবহারিকতা বৃদ্ধি পেলে কর ফাঁক কমে এবং রাজস্বের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, ই‑রিটার্নের ব্যাপক গ্রহণ আর্থিক সেবা খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্যাংক, ফিনটেক ও ট্যাক্স সফটওয়্যার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সেবা ও পণ্য বিকাশের সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে, করদাতাদের জন্য নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। তাই, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভবিষ্যতে ই‑রিটার্নের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে, বিশেষত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও এআই-ভিত্তিক সহায়তা সিস্টেমের সংযোজনের মাধ্যমে। এই ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন রিটার্ন দাখিলের গতি বাড়াবে এবং ত্রুটি হ্রাস করবে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৩৯ লাখের বেশি করদাতা অনলাইন রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন বিদেশি রেজিস্ট্রেশন সুবিধা এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা যায়। করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া এবং ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ানো দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments