31.6 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যকুমিল্লা দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজে পরিবারে চারজন দগ্ধ

কুমিল্লা দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজে পরিবারে চারজন দগ্ধ

২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটায়, একই পরিবারের চারজন সদস্য দগ্ধ হয়ে জরুরি সেবার আওতায় আসে। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত উদ্ধারকর্মী দল আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়।

আহতদের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী মনোয়ারা, ৩৭ বছর বয়সী জিল হক, ৩০ বছর বয়সী উম্মে হুমায়রা এবং মাত্র দুই বছর বয়সী শিশু হুররাম অন্তর্ভুক্ত। উদ্ধারকালে তাদের দগ্ধ অবস্থা স্পষ্ট ছিল, ফলে তৎক্ষণাৎ অগ্নি চিকিৎসা ও শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা দল তাদের দগ্ধের পরিমাণ নির্ণয় করে জানায়, মনোয়ারা বেগমের দেহের প্রায় দুই শতাংশ, জিল হকের দেহের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ এবং শিশুর দেহের ছয় শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে দু’জনের (জিল হক ও উম্মে হুমায়রা) দগ্ধের মাত্রা বিশেষভাবে গুরুতর।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় জিল হক ও উম্মে হুমায়রার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, তীব্র দগ্ধের ক্ষেত্রে ত্বকের ক্ষতি গভীর হওয়ায় দ্রুত শল্যচিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।

ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে রোগীদের তাত্ক্ষণিক শীতলকরণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও রক্ত সঞ্চালন সমর্থন করা হয়। তীব্র দগ্ধের ক্ষেত্রে ত্বকের টুকরা অপসারণ, দাগ কমাতে ত্বক প্রতিস্থাপন এবং শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। রোগীদের অবস্থান অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ও টিটানাস টিক প্রদান করা হয়।

দগ্ধের পরিমাণ ৫০ শতাংশের উপরে থাকা রোগীদের পুনরুদ্ধার সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসন প্রয়োজন। বিশেষ করে উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ দগ্ধের ফলে ত্বকের গভীর ক্ষতি ও তরল ক্ষতি দেখা দিতে পারে, যা সঠিক শল্যচিকিৎসা ও পরবর্তী ফিজিক্যাল থেরাপি ছাড়া কঠিন।

দগ্ধের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পরিবারকে মানসিক চাপ কমাতে কাউন্সেলিং সেবা ও সামাজিক সহায়তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজকে বিস্ফোরণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের অপ্রত্যাশিত রিলিজ হলে বাতাসের সঙ্গে মিশে সহজে দাহ্য মিশ্রণ গঠন করে, যা সঠিক বায়ু চলাচল না থাকলে দ্রুত দাহের ঝুঁকি বাড়ায়।

গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করার সময় সিলের অখণ্ডতা, সংযোগের দৃঢ়তা এবং সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি মেনে চলা জরুরি। সিলিন্ডারকে সরাসরি সূর্যালোক বা তাপের উৎসের কাছাকাছি না রাখুন, এবং নিয়মিত লিকেজ পরীক্ষা করুন।

যদি গ্যাসের গন্ধ বা হালকা শ্বাসকষ্টের লক্ষণ লক্ষ্য করেন, তৎক্ষণাৎ সিলিন্ডার বন্ধ করুন, জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন এবং স্থানীয় জরুরি সেবা (৯৯৯) এ কল করুন। দাহের ঝুঁকি বাড়লে আগুনের উৎস ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করুন।

দগ্ধের প্রাথমিক চিকিৎসায় ত্বককে দ্রুত শীতল করা, পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ধরা এবং কোনো তেল বা ক্রিম ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ। বড় দগ্ধের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন, কারণ সংক্রমণ ও শক প্রতিরোধে পেশাদার হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।

এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গ্যাস সিলিন্ডারের নিয়মিত পরিদর্শন, সঠিক ব্যবহার নির্দেশিকা মেনে চলা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারগুলোর জন্য নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতি রোধ

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments