31.6 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাআজহার মেহমুদ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে পাকিস্তানি জাতীয়তার কারণে কোচিং সুযোগ হারালেন

আজহার মেহমুদ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে পাকিস্তানি জাতীয়তার কারণে কোচিং সুযোগ হারালেন

আজহার মেহমুদ, পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অলরাউন্ডার, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)‑এ কোচিং পদ থেকে বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি একটি ক্রিকেট পডকাস্টে জানিয়েছেন, কোভিড‑১৯ মহামারির পর প্রায় চার বছর আগে সিপিএল‑এর একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে কোচের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাছাই করা হয়নি।

মেহমুদ অনুসন্ধান করে জানেন, ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্তের পেছনে তার পাকিস্তানি জাতীয়তা ছিল মূল কারণ। তিনি বলেন, “একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করার প্রস্তাব পেয়েছিলাম, পরে জানলাম আমি পাকিস্তানি হওয়ায় তারা আমাকে নিতে পারবে না।” ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, দলটিতে কোনো পাকিস্তানি কোচ বা খেলোয়াড় রাখা যাবে না।

আজহার মেহমুদ ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে টেস্টে ২১টি অন্তর্ভুক্ত। তিনি পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত এবং ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে অংশগ্রহণ করেছেন।

সারে (Surrey) দলের হয়ে তিনি ২০০২ থেকে ২০০৭ এবং পরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত খেলেছেন। এছাড়া, ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত কেন্ট (Kent) দলের সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের পর, তিনি স্থানীয় খেলোয়াড়ের মর্যাদায় কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিতে সক্ষম হন।

২০১৬ সালে মেহমুদ পাকিস্তান জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিন বছর এই পদে কাজ করেন। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি‑টুয়েন্টি সিরিজের জন্য তিনি পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। পূর্বে, জেসন গিলেস্পি পদত্যাগের পর তিনি স্বল্প সময়ের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেন।

পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ)‑এর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে মেহমুদ একাধিকবার বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সিপিএল‑এর মতো আন্তর্জাতিক টি‑টুয়েন্টি লিগে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা ছিল, তবে জাতীয়তার কারণে সুযোগ নষ্ট হয়েছে।

মেহমুদ বর্তমান টি‑টুয়েন্টি লিগের পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেন, “এটি আমার জন্য আদর্শ পরিস্থিতি নয়। আমি ইংল্যান্ডে স্বীকৃত কোচ, সারে কাউন্টি ক্রিকেটে কোচিং করেছি, এবং গত দুই বছর পাকিস্তান জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছি। এই দুই বছর পাকিস্তান সেটআপে থাকার ফলে এখন নতুন দায়িত্ব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সবকিছু এখন আইপিএল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। এসএ২০, মেজর লিগ ক্রিকেটের মতো চার‑পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আছে, যা মূলত আইপিএল বা ভারতীয় মালিকানাধীন।” এই পরিস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ার গড়তে বাধা দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিপিএল‑এর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ইসিবি (ICC)‑এর হুঁশিয়ারির আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে পাকিস্তানি খেলোয়াড় বা কোচদের বৈষম্যের শিকার হতে না হয়। তবে মেহমুদের অভিজ্ঞতা দেখায়, জাতীয়তা ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা এখনও কিছু লিগে কার্যকর।

মেহমুদের ক্যারিয়ার এখন নতুন দিক খোঁজার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এখনো কোচিংয়ের প্রতি উত্সাহী এবং আন্তর্জাতিক স্তরে অবদান রাখতে চাই, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উপযুক্ত সুযোগ খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং।” ভবিষ্যতে তিনি যদি কোনো লিগে কোচিং সুযোগ পান, তবে তার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য উপকারী হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments