পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার পিরোজপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দেশের সর্বশেষ নির্বাচনের ওপর মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এবারে যে নির্বাচনটি হয়েছে আমার দেখা মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ একটি নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন মানেই নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, আহত হয়, হাজারো মামলা হয়, নানা রকম ঘটনা থাকে মানুষ আতঙ্কিত থাকে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে আমরা খেয়াল করেছি এবার সারা বাংলাদেশে একটি রক্তাক্তের ঘটনা ঘটেনি। তার জন্য ইন্টেরিম সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার প্রাপ্য।’
সভা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সদর থানার ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, জামায়াত-এ-ইসলামি জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং সরকারি কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মাসুদ সাঈদী সভায় উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করেন, ‘আমরা যারা জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতি করি, আর আপনারা যারা চাকরি করেন সবারই লক্ষ্য উদ্দেশ্য এক’। এরপর তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ১৯৭১ সালে যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। শোষণ, বৈষম্যহীন, সুখী সমৃদ্ধশালী একটি সমাজ, একটি ইনসাফ পূর্ণ সমাজ সেই সমাজ আমরা পাইনি। সেই সমাজ আমরা স্বপ্নে দেখেছি বাস্তবে রূপ নেয়নি।’
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমরা মাঝে মাঝেই হোঁচট খেয়েছি রাজনৈতিক পরিক্রমায়, আমাদের রাজনৈতিক পথ চলায়। মাঝে মাঝে আমরা ফ্যাসিবাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি। আমাদের এখানে স্বৈরাশাসক এসেছে আমরা নিগৃহীত হয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি।’ এরপর তিনি দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর সময়ের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মোকাবিলায় অতিরিক্ত ২০ বছর কেটেছে বলে উল্লেখ করেন।
মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘যে কারণে যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ইনসাপপূর্ণ একটি দেশ গঠন করার কথা দেশের জনগণ সেটা পায়নি। আমাদের সম্মানিত অফিসারবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করে জাতিকে তেমন একটি রাষ্ট্র উপহার দিতে পারেনি।’ তার এই মন্তব্যগুলো বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করে।
সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা ও জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা ও ইন্টারিম সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। উপস্থিতদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি প্রতিনিধিরা সরকারের প্রশংসা ও সমালোচনার মিশ্রণ প্রকাশ করেন, যা দেশের রাজনৈতিক সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
মাসুদ সাঈদীর এই বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, পাশাপাশি দেশের মৌলিক লক্ষ্য অর্জনে অবশিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করে, যা আসন্ন সময়ে পার্টি ও নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হতে পারে।



