রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গত শনিবার ওসাসুনার বিরুদ্ধে ২-১ হারে দলটি বড় ধাক্কা খেয়েছে, আর কোচ আলভারো আরবেলোয়া এখনও মাস্তানতুয়োনোকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেননি। এই অবস্থার ফলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে, কারণ তিনি আসন্ন স্পেনের ফাইনাল এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ওসাসুনার সঙ্গে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ হারে শেষ করেছে, যেখানে হারের পর দলটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। হারের পর কোচ আরবেলোয়া একাধিক বিকল্প পরীক্ষা করলেও, মাস্তানতুয়োনোকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। জাবি আলোনসোকে নিয়ে কোনো পরিবর্তনও দেখা যায়নি, ফলে দুজনই তিনটি ধারাবাহিক ম্যাচে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামেনি।
মাস্তানতুয়োনোর খেলা না পাওয়া আর্জেন্টিনা দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। তিনি ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শুরুর একাদশে ছিলেন, এবং স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা ও উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইম্যাচে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবে খেলার সুযোগ না পেলে, জাতীয় দলের জার্সিতে তার পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।
প্রাক্তন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নরবার্তো আলোনসো এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে “ছেলেটাকে শেষ করে দিচ্ছে” বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, যদি এইভাবে চলতে থাকে তবে মাস্তানতুয়োনো ছোট কোনো দলে চলে যেতে পারে। তার মতে, ক্লাবে সুযোগ না দিলে তিনি তার ক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবেন না।
জানুয়ারির দলবদলে মাস্তানতুয়োনোর সামনে ইতালিতে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সিরি এ চ্যাম্পিয়ন নাপোলি তাকে অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তবে তিনি বার্নাব্যুতে থেকেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কিনা তা এখন প্রশ্নের মুখে, কারণ তার খেলা না পাওয়া তার ক্যারিয়ারের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
আলভারো আরবেলোয়ার নতুন ট্যাকটিক্যাল ছক মাঝমাঠে চারজনের ফর্মুলা গড়ে তুলেছে, যেখানে মাস্তানতুয়োনোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন রদ্রিগো, আর কোচ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর বেশি নির্ভর করছেন। সাম্প্রতিক ফলাফল না হওয়ায় ঝুঁকি নেওয়া এখনো অনিচ্ছুক, ফলে তরুণের প্রথম একাদশের পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।
রিয়াল মাদ্রিদে মাস্তানতুয়োনোর জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বিনিয়োগ করা হয়েছে, তবে ডাগআউটে তার অবস্থান অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। কোচের কৌশলে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না হলে, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বার্নাব্যুর বেঞ্চ থেকে বিশ্বকাপের সাইডলাইনই তার সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সারসংক্ষেপে, মাস্তানতুয়োনোর মাঠে না যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কোচের ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত এবং ক্লাবের কৌশলগত পরিবর্তন না হলে, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও প্রভাব পড়তে পারে। সময়ই নির্ধারণ করবে, তিনি আবার মাঠে ফিরে আসবেন কিনা এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্নে কী ভূমিকা রাখবেন।



