মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ২৫৪/৬ স্কোর করে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১০৭ রানে জয় নিশ্চিত করেছে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোটাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এই রেকর্ডটি গড়ে তুলেছে।
বাটিংয়ে শুরুর মুহূর্তেই জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং লাইনআপে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারায়, ফলে রানের গতি থেমে যায়। সপ্তম ওভারে তৃতীয় ব্যাটারও সাজঘরে ফিরে আসে, যা রোডেশীয়দের ওপর চাপ বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৪৭ রানে থেমে যায়, যা লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ৯ রানেই আউট হন, এরপর সাই হোপওয়েড ১৪ রান যোগ করে। উভয় ওপেনারই দ্রুত সাজঘরে ফিরে আসে, ফলে দলটি দ্রুত স্কোর বাড়াতে সক্ষম হয়। শিমরন হেটমায়ার এবং রোভম্যান পাওয়েল দ্রুতই শেয়ার্ড পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা ১২২ রানের বিশাল জোড়া তৈরি করে।
হেটমায়ার ৩৪ বলেই ৮৫ রান করেন, যার মধ্যে সাতটি চতুর্থ এবং ছয়টি ছক্কা রয়েছে। তিনি ১৯ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তবে ৮৫ রানে থেমে যান। তার আক্রমণাত্মক স্টাইল জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে এবং স্কোরবোর্ডে দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় রাখে।
পাওয়েল ৩৫ বলেই ৫৯ রান করেন, চারটি চতুর্থ এবং পাঁচটি ছক্কা দিয়ে হেটমায়ারের সঙ্গে সমন্বয় করেন। উভয়ের পার্টনারশিপ জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণকে ব্যাহত করে এবং দলের মোট স্কোরকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাদের সংযোজিত রানের পরিমাণ ১২২, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট স্কোরের অর্ধেকেরও বেশি।
ব্র্যাড ইভান্স শেষ উইকেট জুটিতে প্রবেশ করে মাত্র ২১ বলেই ৪৩ রান যোগ করেন, যার মধ্যে দুইটি চতুর্থ এবং পাঁচটি ছক্কা রয়েছে। তার দ্রুত আউটপুট শেষের ওভারগুলোতে দলকে অতিরিক্ত রানের বুস্ট দেয়। ইভান্সের এই পারফরম্যান্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট ২৫৪ রানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যান্য ব্যাটারদের অবদানও উল্লেখযোগ্য; ব্রায়ান বেনেট ৫ রান, মারুমানি ১৪ রান, ডিওন মেয়ার্স ২৮ রান এবং রায়ান বার্ল শূন্যে আউট হন। দলনেতা সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে, আর টনি মুনয়োঙ্গা ১৪ রান যোগ করেন। তবে এই দুই ব্যাটারই শেষ পর্যন্ত বড় স্কোর তৈরি করতে পারেননি।
জিম্বাবুয়ের শিকড়ে রোডেশীয়দের ব্যাটিং ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে; রানা তাড়া করতে নেমে প্রথমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে, ফলে দ্রুত তিনজন ব্যাটার সাজঘরে ফিরে আসে। সপ্তম ওভারে আরও এক ব্যাটার আউট হয়ে দলকে আরও চাপের মুখে ফেলে। শেষ পর্যন্ত রানা তাড়া না করতে পারা দলটি ১৪৭ রানে থেমে যায়।
বোলিং দিক থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুদাকেশ মোতি ২৮ রানের খরচে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। আকেল হোসেনও তিনটি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জিম্বাবুয়ের বোলাররা রানের প্রবাহ দমন করতে ব্যর্থ হয়, ফলে তাদের স্কোর দ্রুত বাড়ে।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমে উইকেট হারিয়ে দলটি শীঘ্রই পিছিয়ে পড়ে, তবে পরবর্তী অংশে হেটমায়ার ও পাওয়েলের আক্রমণাত্মক খেলা স্কোরকে উঁচুতে নিয়ে যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বিশাল জয় দলকে গ্রুপ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসে এবং পরবর্তী ম্যাচে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। জিম্বাবুয়ে দলকে এখন পুনর্গঠন ও পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।



