ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলে সোমবার একটি চ্যার্টারেড এয়ার অম্বুলেন্সে সাতজনের মধ্যে দুজন ক্রু সহ মোট সাতজনের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। দেশের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা DGCA জানিয়েছে যে বিমানটি ঝাড়খণ্ডের কাশারিয়া এলাকায় ধসে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটার মুহূর্তে বিমানটি মেডিকেল ইভ্যাকুয়েশন (এয়ার অম্বুলেন্স) মিশন সম্পাদন করছিল।
বিমানটি Beechcraft C90 মডেল, যা Redbird Airways Pvt Ltd পরিচালনা করছিল। সন্ধ্যায় রাঁচি, ঝাড়খণ্ডের রাজধানী থেকে দিল্লি গন্তব্যে উড়ে যাওয়ার জন্য বিমানটি টেকঅফ করে, রোগী ও চিকিৎসা কর্মীদের সঙ্গে যাত্রা শুরু করে। এ ধরনের এয়ার অম্বুলেন্স রোগীর জরুরি চিকিৎসা সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সজ্জিত থাকে।
উড়ানের সময় আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পাইলট বিমানটি বিকল্প পথ নেওয়ার অনুরোধ করে। তবে ২৩ মিনিট পর বিমানটি রাডার থেকে সংযোগ হারিয়ে যায়, ফলে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কী ঘটেছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়।
DGCA পরের দিন সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, দুর্ঘটনা স্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (AAIB) একটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে।
স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধসে পড়া বিমানটি ঘন জঙ্গলে আঘাত করে। কাশারিয়া অঞ্চলের অগভীর বনের মধ্যে ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে, যা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলছে। জঙ্গলের ঘনত্ব ও ভূপ্রকৃতি অনুসন্ধান দলকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করেছে।
সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সাতজনের মধ্যে কেউ বেঁচে আছে কিনা, কতজন আহত হয়েছে বা নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। DGCA এখনও বেঁচে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ও তাদের অবস্থার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। দুইজন ক্রু সদস্যের পাশাপাশি রোগী ও চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই দুর্ঘটনা এক মাস আগে মহারাষ্ট্রের বারামতি শহরে ঘটিত একটি চ্যার্টারেড বিমান দুর্ঘটনার পরেই ঘটেছে, যেখানে একটি রাজ্য নেতার সঙ্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। দু’টি ঘটনার ধারাবাহিকতা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
এয়ার অম্বুলেন্সের গুরুত্ব স্বাস্থ্যের জরুরি সেবা প্রদান ক্ষেত্রে অপরিসীম, তবে এমন জরুরি পরিবহন মাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া পূর্বাভাসের যথাযথ ব্যবহার, পাইলটের প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল সবই দুর্ঘটনা রোধে মূল ভূমিকা রাখে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে, কঠোর আবহাওয়া শর্তে উড়ান বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করা নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পাঠক হিসেবে আমরা কীভাবে এই ধরনের জরুরি সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি? সরকার ও বেসামরিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।



