ঢাকায় সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে চাষ করা স্ট্রবেরি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন রাস্তার খাবার জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রথমে এই ফলের স্বাদ বেশ টক ছিল, ফলে সরাসরি খাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিক্রেতারা টক ফলকে মশলার সঙ্গে মিশিয়ে একটি স্বতন্ত্র স্ন্যাক তৈরি করেন, যা শহরের খাবার সংস্কৃতিতে নতুন রঙ যোগ করেছে।
প্রথমবার এই মশলাদার স্ট্রবেরি স্ন্যাকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কাছাকাছি একটি স্টল থেকে দেখা যায়। বিক্রেতা করওয়ান বাজারের ওভারপাসের ছায়ায় বসে, কাঁচা স্ট্রবেরি কেটে, সবুজ মরিচ, সরিষার তেল (কাসুন্দি) ও রক সল্ট মিশিয়ে পরিবেশন করতেন। ফলের মিষ্টি-টক স্বাদ ও মশলার তীব্রতা একসাথে মিশে একটি অনন্য স্বাদ তৈরি করেছিল।
এই খাবারটি সাধারণভাবে ভর্তার মতো না গুঁড়ো করে, বরং ছোট টুকরো করে মশলার সঙ্গে মেশানো হয়। ফলে টক স্ট্রবেরি তীক্ষ্ণ মশলার সঙ্গে মিলে রাস্তার খাবারের স্বাদে নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রথমে এটি মৌসুমী পণ্য হিসেবে বিক্রি হলেও, দ্রুতই শহরের বিভিন্ন কোণায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বছরের পর বছর টেস্ট ও ট্রায়াল শেষে, স্থানীয় স্ট্রবেরির গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এখন ফলগুলো মিষ্টি, রসালো ও পূর্ণাঙ্গ, যা সরাসরি খাওয়া বা স্ন্যাকের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ফলের এই পরিবর্তন মানুষকে শহরের প্রান্তে স্ট্রবেরি ফসলের ক্ষেত্র পরিদর্শন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
স্ট্রবেরি তোলার অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। পরিবার ও কৃষকরা নিজস্ব ফিল্ডে ফল তোলার সময় ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছেন। এই ধরনের কার্যক্রম শহরের বাইরে কৃষি পর্যটনকে উত্সাহিত করছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।
বাণিজ্যিক স্ট্রবেরি চাষ বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান নয়; ফলটি বিদেশি উৎসের। তাই চাষের জন্য বহু বছর গবেষণা ও পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট চাষকারীরা নিম্নমানের ফল ও উৎপাদন হ্রাসের সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের জন্য আর্থিক ক্ষতি বয়ে আনে।
এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ধৈর্য্য ও প্রযুক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে ফলের গুণমান বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আধুনিক চাষ পদ্ধতি, সঠিক সেচ ব্যবস্থা ও রোগনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফলের উৎপাদন বাড়ছে এবং বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল হচ্ছে।
স্ট্রবেরি উৎপাদনের এই অগ্রগতি ঢাকায় নতুন খাবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। টক ফলকে মশলার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি স্ন্যাকটি এখন শহরের রাস্তার খাবারের তালিকায় একটি স্বতন্ত্র স্থান দখল করেছে। এটি কেবল স্বাদই নয়, স্থানীয় কৃষি পণ্যের ব্যবহারিকতা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করে।
স্থানীয় স্ট্রবেরি এখন দেশের বিভিন্ন বাজারে সহজলভ্য, ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া, ফলের গুণমান উন্নত হওয়ায় রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে-তে নতুন মেনু আইটেম যোগ করা সম্ভব হয়েছে।
এই প্রবণতা দেখায় যে, সঠিক গবেষণা ও বাজারের চাহিদা মেটাতে সৃজনশীল পদ্ধতি গ্রহণ করলে নতুন পণ্য দ্রুত জনপ্রিয় হতে পারে। স্ট্রবেরি ও মশলার সংমিশ্রণটি ঢাকার খাবার সংস্কৃতিতে একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ফলের সঙ্গে নতুন রেসিপি তৈরির সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।
সারসংক্ষেপে, স্থানীয়ভাবে চাষ করা স্ট্রবেরি এবং তার মশলাদার স্ন্যাকের উত্থান ঢাকার খাদ্য পরিবেশে নতুন স্বাদ ও ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে এসেছে। চাষের প্রাথমিক কঠিন সময় পার করে এখন ফলের গুণমান উন্নত, এবং শহরের বাসিন্দা ও পর্যটক উভয়ই এই নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন।



