23.4 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনিউ ইয়র্কের নারী প্রায় এক মিলিয়ন ডলার হারালেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের কনমানের হাতে

নিউ ইয়র্কের নারী প্রায় এক মিলিয়ন ডলার হারালেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের কনমানের হাতে

নিউ ইয়র্কের এক নারী ২০২২ সালের শরতে নিজ বাড়িতে কাজের প্রস্তাব পেয়ে একাধিক ধোঁকাবাজের জালে আটকে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। তিনি নিজেকে পুনরায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে রক্ষা করতে নামটি ‘জেন’ হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

এই কনমানের পরিচয় ‘দ্য ট্র্যাভেলিং কনম্যান’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI) আন্তর্জাতিক অপরাধ গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত এবং প্রধানত নির্মাণ প্রকল্পের জালিয়াতিতে লিপ্ত।

জেনের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেন এক ব্যক্তি, যিনি আইরিশ উচ্চারণে কথা বলছিলেন এবং নামটি ড্যারেন কানিংহাম (পূর্বে প্যাট্রিক ডান্ডন নামে পরিচিত) বলে জানা যায়। তিনি বাড়ির দরজায় এসে জেনকে জানায় যে তার বাড়িতে কিছু কাজের প্রয়োজন, এবং কাজের পরিধি বাড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে তিনি ইটের জন্য $৬৫,০০০ চাহিদা করেন, তবে প্রকৃত ইটের মূল্য মাত্র $২৫,০০০ ছিল। পরবর্তীতে তিনি অদৃশ্য হয়ে যান, ফলে জেনকে অতিরিক্ত খরচের জন্য বড় বিল পরিশোধ করতে হয়।

কয়েক মাস পর জেনের কাছে আরেকজন সন্দেহজনক ব্যক্তি উপস্থিত হন, যাকে আইনি কারণে ‘মিস্টার ব্লিং’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। জেনের সরবরাহ করা ফটোগ্রাফের মাধ্যমে তার উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়। তিনি দাবি করেন যে ড্রাইভওয়ের কাজ স্থগিত রয়েছে এবং একটি বড় সমস্যার সমাধান দরকার।

মিস্টার ব্লিং নিজেকে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করলেও, পরবর্তীতে তিনি অতিরিক্ত $২০০,০০০ ঋণ চেয়ে জেনকে হুমকি দেন যে তার সন্তানদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এই হুমকির মুখে জেন তৎক্ষণাৎ অর্থ প্রদান করেন।

এই কেসের পাশাপাশি, একই গোষ্ঠীর অন্য দুজন শিকারও তাদের ক্ষতি প্রকাশ করেছেন। এক ব্যক্তি গত বছর $৫০০,০০০ (প্রায় £৩৭০,৯৭১) হারিয়েছেন, আর অন্য এক নারী তার পুত্রের বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড হারিয়েছেন।

শিকারদের বিবরণ অনুসারে, গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রায়শই নির্মাণ কাজের ছদ্মবেশে শিকারদের কাছে পৌঁছে অতিরিক্ত খরচের জন্য ভুয়া ইনভয়েস তৈরি করে। এরপর তারা অপ্রত্যাশিতভাবে বড় পরিমাণ অর্থ চায় এবং হুমকি দিয়ে শিকারদের বাধ্য করে।

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এই কেসটি ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের অধীনে তদন্ত করছে। গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতি, প্রতারণা এবং হুমকি সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, জেনের শিকড়যুক্ত প্রমাণাদি এবং অন্যান্য শিকারদের বিবরণ FBI-কে গোষ্ঠীর গঠন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

এই সময়ে, শিকারদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন সিভিল মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।

গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং এক্সট্রাডিশন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, কারণ যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

শিকারের মানসিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য; জেন জানান যে এই অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করেছে এবং মানসিকভাবে গভীর আঘাতের কারণ হয়েছে।

প্রতিষ্ঠিত আইনগত কাঠামোর মধ্যে, শিকারদের জন্য সাইবার সিকিউরিটি ও আর্থিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

এই কেসের পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ বিরোধী সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করে ভবিষ্যতে অনুরূপ জালিয়াতি রোধে পদক্ষেপ নিতে চায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments