ইউএসের র‑এন্ড‑বি গায়ক এরিক বেনেট ২৪ ফেব্রুয়ারি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জেলি রোলের রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানের পরের মুহূর্তে রোলের এই আচরণ বেনেটের দৃষ্টিতে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রকাশ পেয়েছে।
বেনেট ভিডিওতে শোয়ানো অবস্থায় ক্যামেরার দিকে কথা বলেন এবং রোলের সাম্প্রতিক গ্র্যামি স্বীকৃতি ভাষণকে উল্লেখ করেন। তিনি রোলের পুরস্কার গ্রহণের সময় বাইবেল তুলে ধর্মীয় বার্তা দেওয়াকে উল্লেখ করে, তার পরের প্রশ্নোত্তর সেশনে রোলের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গোপন রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করেন।
ফেব্রুয়ারি এক তারিখে জেলি রোলের কন্টেম্পোরারি কান্ট্রি অ্যালবাম ‘বিউটিফুলি ব্রোকেন’ পুরস্কার জেতার পর, সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বিশ্বব্যাপী সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। রোল নিজেকে ‘সাধারণ রেডনেক’ বলে বর্ণনা করে, রাজনৈতিক মতামত ব্যক্তিগতভাবে রাখার কথা জানান।
এরিক বেনেট রোলের এই মন্তব্যকে ‘অবিশ্বাস্য’ এবং ‘অসত্য’ হিসেবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কেউ যদি প্রেমের কথা উচ্ছ্বাসে বলতে পারে, কিন্তু ঘৃণার বিরুদ্ধে কথা না বলতে পারে, তবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। বেনেটের মতে, রোলের এই রীতি তার শিল্পী হিসেবে দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিলবোর্ড এই বিষয়টি নিয়ে রোলের প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পায়নি। তবে বেনেটের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে রোলের আচরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
গ্র্যামি অনুষ্ঠানে রোল তিনটি পুরস্কার জিতেছিলেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানিত কন্টেম্পোরারি কান্ট্রি অ্যালবাম পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত। তার জয়লাভের পরপরই রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রোলের উত্তর প্রত্যাখ্যান করা দর্শকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করে।
রোলের নিজের কথায় তিনি স্বীকার করেন, তার রাজনৈতিক জ্ঞান তার শৈশবের কঠিন পরিবেশের কারণে সীমিত। তিনি জানিয়েছেন, জেলি রোলের পরিবারে মাদকাসক্তি ও অপরাধের প্রভাব ছিল এবং তিনি কারাগারে থাকাকালেই রাজনৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা পেয়েছিলেন।
রোলের এই স্বীকারোক্তি তার সামাজিক দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে অজ্ঞ ছিলেন এবং তাই তার মতামত শেয়ার করা অনুচিত মনে করেন।
এরিক বেনেট, যিনি ১৯৯০-এর দশকে ‘অ্যান্টি‑ড্রাগ’ অ্যালবাম দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, এই বিতর্কে তার নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি শিল্পীর সামাজিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিল্পীকে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলতে হবে।
বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, রোলের মন্তব্যের প্রতি ভক্ত ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত হয়েছে। কিছু ভক্ত রোলের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেন, অন্যদিকে কিছু সমালোচক তার নীরবতাকে নিন্দা করেন।
এই ঘটনাটি শিল্পী ও সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়ের সংযোগ নিয়ে চলমান আলোচনার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানের পরের এই বিতর্ক শিল্পীদের পাবলিক মন্তব্যের সীমা ও দায়িত্ব সম্পর্কে পুনরায় ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
সারসংক্ষেপে, এরিক বেনেটের প্রকাশিত ভিডিও এবং জেলি রোলের রাজনৈতিক নীরবতা গ্র্যামি পরবর্তী সময়ে মিডিয়া ও জনমতকে উস্কে দিয়েছে। উভয় শিল্পীর অবস্থান ও মন্তব্য ভবিষ্যতে কীভাবে গৃহীত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



