23.4 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনমণিপুরের প্রথম বাফ্টা বিজয়ী লাক্ষ্মিপ্রিয়া দেবীর ‘বুং’ আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে

মণিপুরের প্রথম বাফ্টা বিজয়ী লাক্ষ্মিপ্রিয়া দেবীর ‘বুং’ আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে

লাক্ষ্মিপ্রিয়া দেবী, ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, রবিবার লন্ডনের বাফ্টা পুরস্কার অনুষ্ঠানে সেরা শিশু ও পরিবার চলচ্চিত্র বিভাগে ‘বুং’ নামের মণিপুরি ভাষার চলচ্চিত্রে প্রথম ভারতীয় বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় শিশু চলচ্চিত্রের নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।

‘বুং’ একটি কিশোর-কিশোরীর যাত্রা চিত্রিত করে, যেখানে প্রধান চরিত্র ব্রোজেন্দ্র “বুং” সিংহ, ইমফাল শহরের এক বিদ্যালয়ের ছাত্র, তার অনুপস্থিত পিতার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। ছবিটি মণিপুরের সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে, যেখানে সীমান্ত শহর মোরেহে পিতা কাজের জন্য গিয়েছিলেন।

বাফ্টা পুরস্কার গ্রহণের সময় লাক্ষ্মিপ্রিয়া দেবী মণিপুরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন, উল্লেখ করেন যে তার জন্মভূমি দীর্ঘদিনের নৃগোষ্ঠীয় সংঘাত ও অবহেলার শিকার। ২০২৩ সালের গ্রীষ্ম থেকে চলমান সহিংসতা ফলে ২৬০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দশ হাজারেরও বেশি মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছেন।

চিত্রনাট্যটি সম্পন্ন হয়েছিল যখন মণিপুরে সংঘাতের সূচনা হয়নি, তবে পুরস্কারটি আসার সময় রাজ্য এখনও তার পরিণতি সামলাচ্ছে। এই সময়ে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা পেয়ে, মণিপুরের অপ্রতিনিধিত্বপূর্ণ চিত্রকে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরেছে।

মণিপুরের নৃগোষ্ঠীয় উত্তেজনা এবং মানবিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্রের প্রকাশনা ও বিতরণে বড় বাধা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের চলচ্চিত্রগুলো প্রায়শই সীমিত বাজার এবং হিন্দি-ভাষাভিত্তিক মূলধারার সঙ্গে সংযোগের অভাবে সংগ্রাম করে। ফলে ‘বুং’ এর মতো স্বতন্ত্র কাজগুলোকে ব্যাপক দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কঠিন হয়।

‘বুং’ ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে, তবে ভারতের প্রধান ধারা সিনেমা হলগুলোতে এর প্রচার সীমিত রয়ে গেছে। স্বতন্ত্র ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য এই বিতরণ কাঠামো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যা শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।

চিত্রে গুগুন কিপগেন বুং চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার মা এবং পিতার সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে। পিতা, যিনি মোরেহে ফার্নিচার শপ চালাতেন, পরিবারকে আর যোগাযোগ করে না, ফলে বুং তার পিতার মৃত্যুর গুজবের পরেও তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন।

বুং তার সেরা বন্ধু রাজুকে সঙ্গে নিয়ে পিতার সন্ধানে একটি দীর্ঘ যাত্রা শুরু করে, যেখানে তিনি নিজের সাহস ও দৃঢ়তা পরীক্ষা করেন। এই অনুসন্ধানটি কেবল পারিবারিক বন্ধন নয়, বরং মণিপুরের সামাজিক পুনর্মিলনের একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়।

লাক্ষ্মিপ্রিয়া দেবীর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মণিপুরের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাফ্টা পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে বিশ্ব মঞ্চে শোনার সুযোগ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও স্বতন্ত্র গল্পের জন্য পথ প্রশস্ত হবে। এই সাফল্য মণিপুরের চলচ্চিত্র শিল্পে দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments