অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল রয়্যাল কমিশন অ্যান্টিসেমিটিজ নিয়ে প্রথম জনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই তদন্তের সূচনা ১৪ ডিসেম্বর গত বছর বন্ডি বিচ শুটিংয়ের পর, যেখানে ১৫ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছিলেন। কমিশন দেশের সর্বোচ্চ স্তরের পাবলিক অনুসন্ধান হিসেবে কাজ করবে এবং অ্যান্টিসেমিটিজের বিস্তার ও মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করে সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে।
বন্ডি বিচ শুটিং অস্ট্রেলিয়ার দশকের সবচেয়ে মারাত্মক গণহত্যা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ঘটনাস্থলে দুইজন সন্দেহভাজন গুলিবিদ্ধ হয়; ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম পুলিশ গুলিতে নিহত হন, আর তার ২৪ বছর বয়সী পুত্র নাভিদ আকরাম গুরুতরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে কারাগারে স্থানান্তরিত হন। নাভিদ গত সপ্তাহে প্রথমবার আদালতে হাজির হয়ে ৫৯টি অভিযোগের মুখোমুখি, যার মধ্যে ১৫টি হত্যার অভিযোগ এবং একটি সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনেজ প্রথমে ফেডারেল তদন্তের বিরোধিতা করেন, কারণ তিনি এটিকে সামাজিক সংহতি ব্যাহত করার ঝুঁকি হিসেবে দেখেছিলেন। তবে জনসাধারণের তীব্র চাপের পর তিনি মত পরিবর্তন করে কমিশনের প্রতিষ্ঠা অনুমোদন করেন। এই পরিবর্তন অ্যান্টিসেমিটিজ মোকাবেলায় সরকারের ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসাবেও বিবেচিত হচ্ছে।
কমিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন উচ্চ আদালত বিচারপতি ভার্জিনিয়া বেল। তিনি গত সপ্তাহে একটি বিবৃতিতে অ্যান্টিসেমিটিজ সমস্যার গুরুত্ব স্বীকার করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি জানান। বেল কমিশনের কার্যক্রমকে যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
কমিশনটি দুই ধাপে রিপোর্ট প্রকাশ করবে। প্রথমে এপ্রিলের শেষের দিকে একটি অস্থায়ী রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে, আর পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত রিপোর্ট শুটিংয়ের এক বছর পূর্ণতা, অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা অনুসারে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ হবে।
শুক্রবার বেল কমিশনের কার্যপ্রণালী ও শোনার সূচি প্রকাশ করেন। তিনি এবং সহায়তা করা আইনজীবী সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শোনার সূচনা করেন। শোনার সময় নিরাপত্তা সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ, শিকার পরিবারের সদস্য এবং বেঁচে থাকা বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা শুটিংয়ের পূর্বে নেওয়া সতর্কতা ও তথ্য শেয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেবেন। শিকার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের মানসিক প্রভাব এবং পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরবেন। বেঁচে থাকা বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা হামলার সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমাজে অ্যান্টিসেমিটিজের প্রভাব সম্পর্কে কথা বলবেন।
অধিকন্তু, কমিশনটি চলমান ফৌজদারি মামলার সাথে সংঘর্ষ এড়াতে বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করার জন্য কিছু শোনা গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে অপরাধমূলক তদন্ত ও রয়্যাল কমিশনের কাজ একসাথে চলতে পারে, কোনো পক্ষের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
কমিশনের কাজ শেষ হলে অ্যান্টিসেমিটিজের বিরুদ্ধে আইনগত ও নীতি ভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করা হবে। বিশেষত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংস্থা এবং মিডিয়ার ভূমিকা কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সুপারিশগুলো অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সংহতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই রয়্যাল কমিশনের ফলাফল সরকারকে অ্যান্টিসেমিটিজ মোকাবেলায় নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যান্টিসেমিটিজের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল কমিশন অ্যান্টিসেমিটিজের মূল কারণ উন্মোচন, শিকারদের কণ্ঠ শোনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে নীতি গঠন করার লক্ষ্যে কাজ করবে। শুটিংয়ের পরপরই শুরু হওয়া এই জনশুনানি দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



