23.4 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরাণী ক্যামিলা গিসেল পেলিকোটের স্মৃতিকথা পড়ে বিস্মিত, লন্ডনে চা পার্টি

রাণী ক্যামিলা গিসেল পেলিকোটের স্মৃতিকথা পড়ে বিস্মিত, লন্ডনে চা পার্টি

লন্ডনের ক্লারেন্স হাউসে রাণী ক্যামিলা গিসেল পেলিকোটের নতুন স্মৃতিকথা পড়ে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সী ফরাসি নারী, যিনি যৌন নির্যাতনের শিকারদের স্বরূপে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন, তার সঙ্গে রাণীর এই সাক্ষাৎকারটি দু’দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা বইটি নিয়ে হয়েছে।

গিসেল পেলিকোট, যিনি তার নাম প্রকাশ করে বহু অপরাধীর মুখোমুখি হয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে “Hymn to Life: Shame Has to Change Sides” শীর্ষক স্মৃতিকথা প্রকাশের প্রচার চালাচ্ছিলেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছেন।

রাণী ক্যামিলা তাকে লন্ডনের সরকারি বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান, যেখানে দুজনেই চা পান করে দীর্ঘ আলোচনা করেন। রাণী উল্লেখ করেন, তিনি বহু বেঁচে থাকা নির্যাতনের শিকারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তবু গিসেলের কাহিনী তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিস্মিত করেছে।

রাণীর মন্তব্যে তিনি বলেন, পূর্বে তিনি আর কোনো কিছুর দ্বারা অবাক হবেন না বলে মনে করতেন, কিন্তু গিসেলের কাহিনী তাকে শব্দহীন করে তুলেছে। এই অনুভূতি তিনি দুজনের মধ্যে ভাগাভাগি করেন, যা দুজনেরই আবেগময় মুহূর্তকে চিহ্নিত করে।

চা পার্টি চলাকালীন গিসেলের সঙ্গী জঁ-লুপ আগোপিয়ান এবং তার সাহিত্যিক ও আইনি দলও উপস্থিত ছিলেন। সবাই একসাথে টেবিলে বসে, রাণীর সঙ্গে গিসেলের গল্পের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করেন।

মিটিংয়ের শুরুতে রাণী ফরাসি ভাষায় কথা বলেন, যদিও তিনি মজার ছলে বলেন যে ছয় দশক আগে শিখে এখন ভাষা ভুলে গেছেন। পরে তিনি অনুবাদকারের মাধ্যমে কথোপকথন চালিয়ে যান, যাতে উভয়েরই মতবিনিময় স্বচ্ছ থাকে।

গিসেল বলেন, তার গল্প প্রকাশের পর জনসাধারণের কাছ থেকে অদম্য সমর্থন পেয়েছেন। রাণী এই সমর্থনের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, গিসেলকে এত বড় সাহসিকতার জন্য তিনি গর্বিত।

এই সাক্ষাৎকারের আগে গিসেল লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হল-এ তার বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। বিক্রি শেষ হওয়া টিকিটের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি পূর্ণ ছিল, যেখানে হলিউডের কেট উইনসলেট, ডেম ক্রিস্টিন স্কট থমাস এবং জুলিয়েট স্টিভেনসন মত অভিনেত্রীদের পাঠ্যাংশ শোনা যায়।

গত বছর রাণী ক্যামিলা গিসেলকে একটি চিঠি পাঠিয়ে তার অসাধারণ মর্যাদা ও সাহসের প্রশংসা করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গিসেলের কাজ বিশ্বব্যাপী নারীদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে এবং লজ্জার ধারণাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।

গিসেল চিঠিটি তার অফিসের দেয়ালে ফ্রেম করে রেখেছেন এবং তা দেখলে তিনি অতি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ বোধ করেন। তিনি বলেন, রাণীর এই স্বীকৃতি তার জন্য একটি নতুন শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গিসেলের কষ্টের গল্প ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। তার পূর্ব স্বামী ডোমিনিকের দ্বারা বহু বছর ড্রাগ দিয়ে অচেতন করা এবং অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগ করা বহু পুরুষের দ্বারা নির্যাতনের ঘটনা আদালতে উপস্থাপিত হয়। ১৬ সপ্তাহের জনসাধারণিক ট্রায়ালে ৪৬ জন অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হন।

রাণী ক্যামিলার গিসেল পেলিকোটের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ, দুজনেরই মানবিক দায়িত্বের প্রতিফলন ঘটায় এবং সমাজে লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ায়। এই মিটিংটি সাংস্কৃতিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments