হিল‑ডিকিনসন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সুপার‑সাব বেঞ্জামিন সেস্কো গুরুত্বপূর্ণ গোল করে এভারটনকে পরাজিত করে, ফলে দলটি টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসে। এই জয়টি দলকে অ্যাস্টন ভিলার থেকে মাত্র তিন পয়েন্টের ফাঁক রেখে রাখে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থায়ী কোচ মাইকেল ক্যারিকের অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার রেকর্ডকে একবার আর নিশ্চিত করে।
গেমের সূচনা থেকেই উভয় দলে তীব্রতা দেখা যায়; এভারটনের থিয়ের্নো ব্যারি কিক‑অফের সঙ্গে সেনে ল্যামেন্সের ক্লিয়ারেন্সকে বাধা দেয়, ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক দ্রুত বলটি পুনরায় খেলা শুরু করতে পারেন। প্রথম আক্রমণে কোবি মেইনু জর্ডান পিকফোর্ডের সামনে শট মারেন, যা সরাসরি গোলের বদলে গোল‑কিকের দিকে যায়।
কোবি মেইনুর শটের পরপরই জেমস টারকোস্কি গোললাইন-এর ঠিক সামনে অবস্থান করে বলটি পরিষ্কার করেন, এভারটনের রক্ষার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণ তৎপরভাবে চালু থাকে; আমাদ দিয়ালো, ব্রায়ান এমবেও এবং মাতেউস কুনহা ধারাবাহিকভাবে এভারটনের রক্ষার উপর চাপ সৃষ্টি করেন, যদিও পিকফোর্ডের জন্য তা বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ক্যারিক বেঞ্জামিন সেস্কোকে পরিবর্তন করে আনা হয়। সেস্কো দ্রুতই ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করেন; তিনি পেনাল্টি এলাকায় প্রবেশ করে এক চমকপ্রদ শট মারেন, যা পিকফোর্ডের নেটকে ছুঁয়ে গিয়ে গোলের ফলাফল দেয়। এই গোলটি এভারটনের ঘরে আরেকটি পরাজয় নিশ্চিত করে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়কে দৃঢ় করে।
বেঞ্জামিন সেস্কোর এই পারফরম্যান্স ক্যারিকের অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। ক্যারিকের তত্ত্বাবধানে দলটি এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচে পাঁচটি জয় এবং একটি ড্র অর্জন করেছে, যার মধ্যে পূর্ববর্তী ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে জয়ও অন্তর্ভুক্ত। সেস্কোর ধারাবাহিক প্রভাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে শিরোপা লিগের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এভারটনের ঘরে ধারাবাহিক পরাজয় তাদের হোম রেকর্ডকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। দলটি এই মৌসুমে হোম গেমে ধারাবাহিকভাবে হেরে যাচ্ছে, এবং আজকের ম্যাচে তাদের আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলো সীমিত ছিল। কিয়ারনান ডিউসবুরি‑হল মাঝখান থেকে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হলেও, ইলিমান ন্ডায়ের গভীর অবস্থান প্রায়ই আক্রমণকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
টেবিলের দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থান এখনো অস্থির, তবে এই জয় তাদেরকে শীর্ষ চারের মধ্যে দৃঢ় অবস্থানে রাখে। অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে তিন পয়েন্টের পার্থক্য বজায় রেখে, দলটি শিরোপা লিগের যোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে জেমস গার্নার এভারটনের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সকে চাপিয়ে দেন, তবে তা গোলের রূপ নেয় না। সামগ্রিকভাবে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক গঠন এবং সেস্কোর তীক্ষ্ণতা এই ম্যাচে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, আর এভারটনের ঘরে ধারাবাহিক পরাজয় তাদের মৌসুমের চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পরবর্তী ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে শীর্ষ চারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে এই জয় থেকে অর্জিত আত্মবিশ্বাস তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এভারটনকে অবশ্যই ঘরে ফিরে তাদের হোম ফর্ম পুনরুদ্ধার করতে হবে, নতুবা টেবিলের নিচের দিকে নামার ঝুঁকি বাড়বে।



